বিশ্বকাপ মানেই আলাদা কিছু, একেবারেই অন্যরকম রোমাঞ্চ। এখানে প্রতি চার বছর পরপরই ভেঙে যায় বহু বছরের পুরনো রেকর্ড, আবার সৃষ্টি হয় নতুন কিছু অমরগাথা। কিন্তু কিছু ইনিংস, কিছু পারফরমেন্স রয়ে যায় সকল কিছুর ঊর্ধ্বে। কারণ তারাই পথ দেখিয়েছিল রেকর্ড বুকের। এরকম কিছু ইনিংস ও পারফরমেন্স নিয়েই আমাদের আজকের এই অবতারণা।

প্রথম সেঞ্চুরি, ড্যানিশ অ্যামিস

ইংল্যান্ড বনাম ভারত, লর্ডস, জুন ৭, ১৯৭৫

ইংলিশ ওপেনার ড্যানিস অ্যামিসের এই রেকর্ড কোনদিন কেউ ভাঙতে পারবেন না। ১৯৭৫ বিশ্বকাপের প্রথম আসরে সবার আগেই সেঞ্চুরি করে বসেন তিনি। বিশ্বকাপ যতবারই আসবে ততবারই মনে পড়বে অ্যামিসের নাম। এটা এমন এক কীর্তি যা তাকে অমর করে রাখবে।

ভারতের বিপক্ষে অ্যামিস সেদিন ১৩৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ১৪৭ বলে। বাউন্ডারি মেরেছিলেন ১৮টি। অ্যামিসের দুরন্ত ইনিংসের সৌজন্যে ৬০ ওভারের ম্যাচে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে তুলেছিল ৩৩৪ রান। ভারত পুরো ৬০ ওভার খেলে ৩ উইকেটের বিনিময়ে তুলেছিল মাত্র ১৩২ রান।

উল্লেখ্য, এই ম্যাচেই এক ভূতুরে ইনিংস খেলে রেকর্ড বুকে জায়গা করে নেন ভারতের কিংবদন্তী ওপেনার, লিটল মাষ্টার খ্যাত সুনীল গাভাস্কার। তিনি এই ম্যাচে পুরো ৬০ ওভার ব্যাটিং করেন এবং ১৭৪ বল মোকাবেলা করে করেন মাত্র ৩৭ রান।

প্রথম ৫ উইকেট, ডেনিস লিলি

অস্ট্রেলিয়া বনাম পাকিস্তান, হেডিংলি, জুন ৭, ১৯৭৫

ড্যানিস অ্যামিসের সেঞ্চুরির দিনে ৫ উইকেট পেয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ডেনিস লিলি। এটি ছিল বিশ্বকাপের তিন নম্বর ম্যাচ। লিলি ১২ ওভার বল করে মাত্র ৩৪ রান দিয়ে পান ৫ উইকেট। ৬০ ওভারে অস্ট্রেলিয়া তোলে ২৭৮/৭। সর্বোচ্চ ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন রস এডওয়ার্ডস।

ওই রান তাড়া করতে নেমে মাজিদ খান এবং আসিফ ইকবাল দুজনেই ফিফটি পেয়ে যান। ৪০ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৭২ রান। কিন্তু লিলির অতিমানবীয় বোলিংয়ে ধ্বসংস্তুপে পরিণত হয় পাকিস্তান। মাত্র ২০৫ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।

প্রথম হ্যাট্টিক, চেতন শর্মা

ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড, নাগপুর, অক্টোবর ৩১, ১৯৮৭

১৯৭৫-১৯৮৭, পার হয়ে গেলো তিনটি বিশ্বকাপ, ৪র্থ বিশ্বকাপে পদার্পণ করলো ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর। কিন্তু এখনো একটি হ্যাট্রিকের জন্য হাহাকার করছিলো এই টুর্নামেন্ট। শুধু তাই নয়, ওয়ানডে ফরম্যাটেও, ১৬ বছরের ইতিহাসে এই হ্যাট্রিক ছিল খুবই বিরল ঘটনা। তবে ৮৭’র বিশ্বকাপ অবসান ঘটালো সকল প্রতীক্ষার। খুঁজে পাওয়া গেলো সবেধন নীলমণি হ্যাট্রিককে। তাও একটি নয়, দুটি। সর্বপ্রথম ভারতের চেতন শর্মার দেখালেন বিরল কৃতিত্ব।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাট্রিক করে বসেন তিনি। অথচ আগের ৫ ওভার খুবই সাদামাটা বোলিং করেছিলেন শর্মা। ষষ্ঠ ওভারে এসেই একে একে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান কেন রাদারফোর্ড, ইয়ান স্মিথ এবং ইওয়েন চ্যাটফিল্ডকে। ভারতও ওই ম্যাচ জিতে উঠে যায় গ্রুপের শীর্ষে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here