একটি স্বার্থান্বেষী মহল জনমনে ভীতি ছড়াতে ও একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করতেই রাজধানীর মালিবাগে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

তিনি বলেন, যে বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটি সাধারণ ককটেলের চেয়ে শক্তিশালী। ধারণা করা হচ্ছে, বোমাটি গাড়িতে পেতে রাখা হয়েছিল। জনমনে ভীতি ছড়াতে এবং নৈরাজ্য ও অরাজকতা তৈরির জন্য কোনো একটি গোষ্ঠী এই অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

সোমবার মালিবাগে ককটেল বিস্ফোরণে আহত রিকশাচালক লাল মিয়াকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এসে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন।

এর আগে, রোববার (২৬ মে) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণে ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদা আক্তার বাবলী (২৮) ও রিকশাচালক লাল মিয়া (৫৫) আহত হন।

ঢামেক হাসপাতালে রিকশাচালক লাল মিয়ার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন ডিএমপি কমিশনার। তাকে দেখে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, আহত রিকশাচালক লাল মিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাকে সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রোববার রাতে মালিবাগে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, মালিবাগ মোড়ে যে ককটেলটি বিস্ফোরিত হয়েছে, তা সাধারণ ককটেলের চেয়ে শক্তিশালী ছিল। ককটেল বিস্ফোরণে লাল মিয়া মাথায় আঘাত পেয়েছেন। গত রাতে তার মাথার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এখন সবকিছু স্বাভাবিক আছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। তার চিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার, সবকিছুই করা হচ্ছে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, কাউন্টার টেররিজম, ডিবি, সিআইডি ঘটনাস্থলে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। কারা কী উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এটি কী ধরনের বিস্ফোরক, তা কাউন্টার টেররিজমের বোম ডিসপোজাল ইউনিট  খতিয়ে দেখছে। এটি পুলিশকে টার্গেট করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো কিছুকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ককটেলটি পুলিশ ভ্যানে পেছনে আগে থেকেই রাখা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। বৈশ্বিক যে উগ্রবাদের প্রভাব আছে সারাবিশ্বে, বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। সংঘবদ্ধ বা বড় ধরনের নাশকতা করার ক্ষমতা তাদের নেই। ২০১৬ সালে হলি আর্টিজান হামলার পর তাদের বিধ্বস্ত করা হয়েছে। কখনো কখনো তারা বিচ্ছিন্নভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর অপচেষ্টা করে, সেগুলো আমরা নজরদারিতে রাখছি। জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য দেশের মানুষের রক্ষার জন্য যেকোনো নৈরাজ্য উগ্রবাদ দমানোর জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

 

ককটেল বিস্ফোরণে আহত পুলিশের এএসআই রাশেদা আক্তার বাবলী রোববার রাতে জানান, তিনি মালিবাগ মোড়ে ডিউটিতে ছিলেন। তার পাশেই একটি পুলিশ ভ্যান পার্কিং করে রাখা ছিল। রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটলে স্প্লিন্টার তার পায়ে আঘাত হানে। তবে কে বা কারা ককটেলটি ছুঁড়েছে তা দেখতে পাননি বলে জানান তিনি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here