ভারতে লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় নিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। আগামী ৩০ মে পুনর্বার সরকার প্রধান হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন মোদি।

সেই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কি যাচ্ছেন? এ নিয়ে চলছে বিশ্ব রাজনীতিতে নানা আলোচনা।

ইন্ডিয়া টুডে ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সেই শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

রয়টার্স লিখেছে, লোকসভা নির্বাচনের আগে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধানোর ফায়দা নিয়ে মোদী ক্ষমতায় টিকে যান বলে অনেকের ধারণা রয়েছে, কিন্তু শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তান বাদ পড়ায় দুই দেশের সম্পর্ক অচিরে উষ্ণ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির উল্লেখ করে রয়টার্স লিখেছে, এবার বিমসটেক জোটভুক্ত দেশগুলোর নেতাদেরই শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

নয়া দিল্লির আরেকটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, শপথ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণের তালিকায় পাকিস্তান নেই।

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্ককে পাশে রেখে গত কয়েক বছর ধরেই বঙ্গোপসাগরীয় অর্থনৈতিক জোট বিমসটেককে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।

এই জোটে ভারত ছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড। বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ৩০ মের অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।

‘প্রতিবেশীরা আগে’- এই নীতিতে বিমসটেক দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বলে ওই বিবৃতিতে বলা হয়; গতবারও একই নীতিতে সার্ক দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

ভারতের গণমাধ্যম বলছে, এবার পাকিস্তানকে বাদ দিতেই সার্কের বদলে বিমসটেককে সামনে আনা হয়েছে।

এদিকে গত রোববার টেলিফোনে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাশাপাশি তিনি শান্তি আলোচনায় বসতে নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানিয়েছেন বলে এএফপির খবরে বলা হয়।

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ১৪ ফেব্রুয়ারি হামলার ঘটনার পর এই প্রথম টেলিফোনে কথা বললেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ট আসন নিয়ে জয়ী হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টুইটারে শুভেচ্ছা জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

ইমরান খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চান ভারতের দ্বিতীয়বার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।

এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, নিজেদের বিশ্বাস বাড়াতে হবে এবং হিংস্রতা মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here