আসন্ন বিশ্বকাপের আগে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বোলিং-ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩৫৯ রান করে ভারত। জবাবে ৪৯.৩ ওভারে ২৬৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। এতে ৯৫ রানের সহজ জয় পায় বিরাট কোহলির দল।

লক্ষ্যে নেমে লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে আশা জাগানো শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু তিন দফায় পরপর দুটি করে উইকেট হারায় তারা। লিটনের সঙ্গে সৌম্য ৪৯ রানের জুটি গড়ার পর মুশফিকুর রহিম দলীয় স্কোরবোর্ডে অবদান রাখেন। কিন্তু টানা তিনবার জোড়া ধাক্কার খেসারত দিয়েছে বাংলাদেশ নির্মমভাবে।

ভালো শুরুর পর পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে জসপ্রীৎ বুমরাহর জোড়া আঘাতে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দশম ওভারের চতুর্থ বলে বুমরাহর বল সৌম্যর ব্যাটের কানায় লেগে দিনেশ কার্তিকের গ্লাভসে ধরা পড়ে। ২৯ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২৫ রান করেন তিনি, ভাঙে ৪৯ রানের জুটি। পরের বলেই সাকিব আল হাসানকে বোল্ড করেন ভারতীয় পেসার।

এই জোড়া ধাক্কা বাংলাদেশ কাটিয়ে ওঠে মুশফিক ও লিটনের জুটিতে। একশ ছাড়ানো জুটি গড়ার পথে ২৪তম ওভারে যুজবেন্দ্র চাহালকে বাউন্ডারি মেরে হাফসেঞ্চুরি করেন লিটন। চার ওভার পর মুশফিকও পান ফিফটির দেখা, ৫৮ বল খেলে। চাহালের বলে ১২০ রানের এই জুটি ভাঙে লিটন ৭৩ রানে স্টাম্পিং হলে। ৯০ বলের ইনিংসে ১০টি চার মারেন বাংলাদেশি ওপেনার। পরের বলে মোহাম্মদ মিঠুন রানের খাতা না খুলে এলবিডাব্লিউ হন। কিছুক্ষণ পর কুলদীপ যাদবের কাছে বোল্ড হন মাহমুদউল্লাহ। তার ১২ বলের ইনিংসে ছিল একটি চার।

পরের জোড়া আঘাত হানেন কুলদীপ যাদব। ভারতের এই স্পিনার তার অষ্টম ওভারে মুশফিককে ৯০ রানে বোল্ড করেন। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান ৯৪ বলে ৮ চার ও ২ ছয় মারেন। পরের বলে স্টাম্পিং হয়ে শূন্য হাতে ফিরে যান ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল জেতানো মোসাদ্দেক হোসেন। পরের ওভারে রবীন্দ্র জাদেজা ৭ রানে সাব্বির রহমানকে বোল্ড করেন। কোনও রান না করতেই তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে লড়াই করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ২৫ বলে ১৮ রান করে চাহালের বলে কুলদীপের ক্যাচ হন তিনি। দুজনের জুটি ছিল ৪৬ রানের। মিরাজ ২৭ রানে রান আউট হলে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

কুলদীপ ও চাহাল ভারতের পক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন। দুটি পান বুমরাহ।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও লোকেশ রাহুলের দারুণ দুটি সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়ে ভারত।  কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে নির্ধারিত ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে করে ৩৫৯ রান করে তারা। সাবেক অধিনায়ক ধোনি খেলেন ১১৩ রানের দারুণ একটি ইনিংস। আর তরুণ ব্যাটসম্যান রাহুল ১০৮ রান করেন সাব্বিরের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে।

বাংলাদেশের পক্ষে রুবেল হোসেন ও সাকিব আল হাসান দুটি করে এবং মুস্তাফিজুর রহমান, সাইফউদ্দিন, সাব্বির রহমান একটি করে উইকেট নেন। বিশেষ করে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে(৪৭) দারুণ বলে ফিরিয়েছেন সাইফউদ্দিন।

এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার শেষ  সুযোগ পাচ্ছে তারা। নিজেদের দল সম্পর্কেও একটা স্বচ্ছ ধারণা পাবে তারা।

এর আগে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ছয় উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছিল কোহলির ভারত। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ দল মাঠেই নামতে পারেনি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ভারত মাত্র ১৭৯ রানে ইনিংস গুটিয়ে নেয়। একমাত্র রবীন্দ্র জাদেজা ভালো করেছেন। তিনি সে ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন। টেলর (৭১) ও উইলিয়ামসনের (৬৭) ব্যাট হাতের দৃঢ়তায় নিউজিল্যান্ড সহজেই ছয় উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়।

কদিন আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে দারুণ খেলেছে বাংলাদেশ। সেই সিরিজের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন মাশরাফিরা।

প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় আজ বাংলাদেশ সুযোগ দিচ্ছে স্কোয়াডের সবাইকেই।

আগামী রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আর ভারতের বিশ্বকাপ শুরু হবে ৫ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here