মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার ঘটনায় যে মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে তার টেকসই ও আশু সমাধানের উপায় নিয়ে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আলোচনা করেছেন।

শেখ হাসিনা জানান, জাপান বুঝতে পেরেছে যে এ সংকটের সমাধান বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোর নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে ফেরার মধ্যে নিহিত রয়েছে।

তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোর ফেরার জন্য মিয়ানমারের দরকার তাদের রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।

‘এ সংকট সামাল দেয়ায় উদার সমর্থন এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনে প্রচেষ্টার জন্য আমি জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই,’ বলেন শেখ হাসিনা।

এদিকে, শেখ হাসিনা ও শিনজো আবে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

জাপান সফররত শেখ হাসিনা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুই দেশের জনগণ ও সরকারের মাঝে বিদ্যমান চমৎকার বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বের কল্যাণে এসব কিছু অর্জন করা যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ প্রসারে ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ৪০তম ওডিএ ঋণ প্যাকেজ সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনা ও শিনজো আবে।

এ ঋণ প্যাকেজের জন্য আবেকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে সৃষ্টি ঝুঁকি হ্রাস ও শিশুদের নিরাপদ রাখতে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং শান্তি ও জ্ঞানের দিগন্ত বিস্তারে পরস্পরের প্রচেষ্টায় সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপান খুব বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। ‘১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর থেকে জাপান যে মাত্রার অঙ্গীকার দেখিয়ে আসছে তা সত্যিই অসাধারণ।’

শেখ হাসিনা জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তার উন্নয়নের ভিশন জাপানের উন্নয়নের ইতিহাস দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিল।

‘স্বাধীনতার ৪৮ বছরের অধিক সময় পর, এখন আমরা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি যে ওই স্বপ্ন পূরণে আমরা সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছি। এবং জাপানকে সব সময় আমাদের পাশে পাওয়া ভরসাজনক,’ বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ও আবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুরো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করতে কিছু নতুন ধারণার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সব যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী আবে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে এ লক্ষ্য পূরণে জাপান বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে,’ যোগ করেন তিনি।

দুই নেতা সব সম্ভাব্য ক্ষেত্রে কাজ করতে একমত হয়েছেন, যেখান থেকে দুই দেশই পারস্পারিকভাবে লাভবান হতে পারবে।

সম্ভাবনাকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং এ জন্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবে তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাপান সহযোগিতা দেয়া অব্যাহত রাখবে।

‘বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আমরা ওই অঞ্চলে মানসম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছি,’ বলেন শেখ হাসিনা।

‘আমরা বিশ্বাস করি যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের মূল হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবাহ। আমরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছি,’ যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, এ সুন্দর দেশে আসা সব সময়ই আনন্দের। ‘আমি বিশেষভাবে সুন্দর ঐকতানের নতুন যুগ ‘রেইওয়া’র শুরুতে এখানে এসে আনন্দিত।’

তিনি জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সিংহাসন আরোহণ উপলক্ষে সম্রাট, রাজ পরিবারের সদস্য ও জাপানি জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

‘জাপান সরকার আমাকে ও আমার প্রতিনিধিদলকে যে আতিথেয়তা দিয়েছে তাতে আমি গভীরভাবে আপ্লুত। আমার সফর নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে কঠোর পরিশ্রম করা সব জাপানি কর্মকর্তাকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ,’ যোগ করেন শেখ হাসিনা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here