বলপ্রয়োগ করে হলেও ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা উল্টে দেয়ার দাবিদার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে ইরানের সরকার পরিবর্তন করতে চাননি এবং এখনো চান না।

ট্রাম্পের আসন্ন ব্রিটেন সফরের প্রস্তুতি পরিদর্শনে লন্ডনে গিয়ে বৃহস্পতিবার একথা বলেন বোল্টন। তিনি স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ট্রাম্প শুধু এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে চান যে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে না।

বোল্টন এমন সময় এ দাবি করলেন যখন ২০১৫ সালে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরের প্রধান লক্ষ্য ছিল এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ নাকচ করে দেয়া সত্ত্বেও পাশ্চাত্য বারবার একই অভিযোগ করার পর দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে পরমাণু সমঝোতা সই হয়।

ওই সমঝোতায় ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আনার বিনিময়ে তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো। কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছরের মে মাসে ওই সমঝোতা থেকে আমেরিকাকে বের করে নেন। তিনি ইরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। সে ঘটনার এক বছর পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের বরাত দিয়ে জন বোল্টন আবার দাবি করলেন, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সে লক্ষ্যে চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।

জন বোল্টন লন্ডনে দেয়া তার সাক্ষাৎকারে আরো দাবি করেন, ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন অবস্থানগুলোতে হামলা চালানোর আশঙ্কা এখনো একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী করার ফলে সে আশঙ্কা অনেকাংশে কমে গেছে।

বোল্টন এমন সময় এ দাবি করলেন যখন ইরান বারবার বলেছে, আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই। একইসঙ্গে ইরান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, আক্রান্ত হলে আগ্রাসী বাহিনীকে কঠোর জবাব দেয়া হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here