মুসলমানদের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিশেষ রহমত এবং অনুগ্রহের রজনী পবিত্র ‘লাইলাতুল কদর’। ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ নাজাতের উছিলা হিসেবে যথাযথ মর্যাদা ও পবিত্রতার সাথে শবেকদর পালন করে থাকেন। কদরের রাতের এবাদত হাজার মাসের এবাদতের চেয়ে উত্তম বলে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ রয়েছে। এ রাত থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) ওপর পবিত্র কুরআন নাজিল শুরু হয়।

শবে-কদরের রাতে বিভিন্ন মসজিদ, খানকাহ, দরবার ও মাজারে এবাদত বন্দেগির পাশাপাশি ধর্মপ্রাণ মুসলামানগণ বিভিন্ন মাজার ও কবর জিয়ারত করবেন। সারারাত এবাদত বন্দেগি শেষে বাদ ফজরে আখেরি মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

কদরের গুরুত্ব ও আমল : রমজান মাস আল্লাহ তা’আলার এক বিশেষ নিয়ামত। গুনাহ মাফের ও অধিক সাওয়াব অর্জনের সুবর্ন সুযোগ। এ মাসে আল্লাহ প্রদত্ত একটি রাত রয়েছে, তা হচ্ছে শবেকদর। যা হাজার মাস থেকেও উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল, সে বঞ্চিত হবে মহাকল্যাণ হতে। হাদিসে বলা আছে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত সমুহে কদরের রজনী তালাশ কর। (মেশকাত ২০৮৩/২০৮৫)

লাইলাতুল কদরের গুরুত্বসমূহ হচ্ছে : এ রাতে কুরআনুল কারীম লাউহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে নাজিল হয়। এ বিষয়ে আল কুরআনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয় আমি এটি নাজিল করেছি ‘লাইলাতুল কদরে’। (কদর : ১)। এ রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। আল-কুরআনে বলা হয়েছে “লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।” (কদর : ৩)। এ রাতে ভাগ্য নির্ধারণ হয় আল-কুরআনে বলা হয়েছে, “সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়, আমার নির্দেশে। নিশ্চয় আমি রাসূল প্রেরণকারী”। (দুখান : ৪-৫)। এ রাতে নফল সালাত আদায় করলে মুমিনদের সগিরা গুণাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব পাওয়ার আশায় ইবাদত করবে তাকে পূর্বের সকল গুণাহ মাফ করে দেয়া হবে” (বুখারি : ৩৫)। এ রাত পাওয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর” (বুখারি : ২০১৭)। এ রাত পাওয়ার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক পরিশ্রম করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য সময়ের তুলনায় রমজানের শেষ ১০ দিনে অধিক হারে পরিশ্রম করতেন।” (মুসলিম : ১১৭৫)। এ রাতে পৃথিবীতে অসংখ্য ফেরেশতা নেমে আসে। আল-কুরআনে বলা হয়েছে, “সে রাতে ফেরেশতারা তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করেন। (কদর : ০৪)।

আমল : কিয়ামে লাইলাতুল কদরের নামাজ আদায় অধিক দোয়া করা। মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বললেন, “আয় আল্লাহর নবী! যদি আমি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই তবে কী বলবো? রাসূল (সা.) বললেন, সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহ আকবর উচ্চারণ করতে। সুবহানাল্লাহ পাঠ করলে ১০ সওয়াব ও ২০ গুনাহ মাফ। আল্লাহু আকবার উচ্চারণে ২০ সওয়াব ও ২০ গুনাহ মাফ। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু পাঠে ২০ গুনাহ মাফ ও ২০ সওয়াব। আর আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন পাঠে ৩০টি গুনাহ মাফ ও ৩০টি সওয়াব লেখা হবে (মুসনাদ : ১১৩৪৫)। অধিক অধিক তওবা করা এবং সদাকাহ করা [আ-তারগিব ওয়াত তাহজিব]

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে মহিমান্বিত রজনী পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনে হাজার মাসের চেয়েও বেশি ইবাদতের নেকী লাভের সুযোগ এনে দেয় এই রাত। এই মহিমান্বিত রজনী সকলের জন্য ক্ষমা, বরকত, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনুক মহান আল্লাহর দরবারে এ মোনাজাত করি।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে পবিত্র এই রজনীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদরের রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। এ রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এ রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তাঁর অসীম রহমত, বরকত ও মাগফিরাত।’

এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারি পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আজ শুক্রবার বাসস’কে বলেন, ‘১ জুন শনিবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।’

তিনি বলেন, এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর (বেলা দেড়টায়) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ওয়াজ পেশ করবেন মিরপুর বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব ড. মুফতি আবদুল মুকিত আযহারী।

জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদেই তারাবীর নামাজের পর থেকে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন থাকবে।

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিওসমূহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। এছাড়া সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here