এক যুগ পর আবারও কোন টুর্নামেন্টে ‘অল ইংলিশ’ ফাইনাল দেখতে পাবেন ফুটবল প্রেমিরা। চ্যাম্পিয়ন লিগের শিরোপা লড়াইয়ে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের মাঠ ওয়ান্ডা মেট্রোপলিতানোয় মুখোমুখি হবে লিভারপুল ও টটেনহ্যাম।

ইউরোপিয়ান কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে এর আগে একবারই অল-ইংলিশ ফাইনাল দেখা গেছে। ২০০৮ সালে ইউরোপ-সেরা হওয়ার সে ফাইনালে চেলসির মুখোমুখি হয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য টুর্নামেন্ট হিসেব করলে এটি তৃতীয়বারের মতো অল-ইংলিশ ফাইনাল। ১৯৭২ সালে উয়েফা কাপের ফাইনালে উলভসের মুখোমুখি হয়েছিল এই টটেনহাম।

টটেনহামের দায়িত্বে থাকা কোচ মরিসিও পচেত্তিনো এর আগে কখনো কোনো শিরোপা জেতেননি। ওদিকে লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার টানা ছয় ফাইনালে হেরেছেন! তাই আজ এ দুই কোচ খুব করেই চাইছেন স্ব স্ব ক্লাবের হয়ে শিরোপা জিততে। কিন্তু ম্যাচ শেষে উৎসবে মাতবেন তো একজন।

২০১৫ সালে ক্লপ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ধারাবাহিক সাফল্য পাচ্ছে লিভারপুল। তার পুরো তিন মৌসুমের দায়িত্বে দলটি প্রতিবারই চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছে। কিন্তু শিরোপা জিততে পারেনি। ২০০৫ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের পর লিভারপুল এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এবং ১৪ বছরের মধ্যে চতুর্থবারের মতো প্রতিযোগিতাটির ফাইনাল খেলছে।

আগের ফাইনালগুলোর ব্যর্থতার পরও এবার লিভারপুলকে নিয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী ক্লপ। গত চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৩-১ গোলে হারের স্মৃতি এখনো ভোলেননি কেউ। তবু জার্মান এই কোচ সবাইকে আশা দেখাচ্ছেন এবারের ফাইনাল নিয়ে, ‘আগের সব ফাইনালের সঙ্গে এবারের অনেক পার্থক্য। গত ছয় ফাইনালে হারের কারণ যদি আমি হই, তাহলে সবার দুশ্চিন্তার কারণ থাকত। গত বছর বিশ্বমানের এক গোল আর দুটি অদ্ভুত গোলের কাছে হেরেছি। সাধারণত অমন গোল আমরা খাই না।’

আত্মবিশ্বাসী হলেও প্রতিপক্ষ টটেনহ্যামকে শ্রদ্ধার চোখেই দেখছেন ক্লপ, ‘ফাইনালে আমরা দুটি পরিপূর্ণ ফুটবল দল খেলতেও নামব। পচ যা করছে তা আমি শ্রদ্ধা করি। সে যখন এসেছিল (টটেনহামে) তখন প্রতিভাবান একটা দল পেয়েছিল। তাঁর অধীনে ওরা যেভাবে উন্নতি করেছে সেটা খুবই দারুণ। এটা সত্যিকারের একটি ফুটবল ফাইনাল-দুই পক্ষকেই সেটা মানতে হবে।’

এ মৌসুমে লিগে টটেনহ্যামকে দুইবারের দেখায় দু’বারই হারিয়েছিল লিভারপুল। যে কারণে আজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বেশ এগিয়েই দলটি। কিন্তু ব্যাপারটি মানতে চাইছেন না ক্লপ, ‘যদি টটেনহ্যাম এগিয়ে আছে বলা হতো, আমি অবশ্যই রাগ করতাম। আমি জানি অনেকেই লিভারকে ফেবারিট বলছে, কারণ আমরা লিগে বেশি পয়েন্ট পেয়েছি। কিন্তু টটেনহামের সঙ্গে আমাদের ম্যাচ দুটি যদি দেখেন, দুটির ব্যবধানই মাত্র ২-১ ছিল। ম্যাচে তাই কেউই এগিয়ে নেই।’

এদিকে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে আত্মবিশ্বাসী টটেনহ্যাম কোচ মরিসিও পচেত্তিনো, ‘প্রিমিয়ার লিগে আমাদের দ্বিতীয় ম্যাচটার দ্বিতীয়ার্ধের খেলার কথা বলে ফুটবলারদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছি। আমার ছেলেরা এবার এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না।’

এরআগে বার্সেলোনাকে হারিয়ে লিভারপুল ও আয়াক্সকে কাঁদিয়ে টটেনহ্যাম চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল। আজ এ দুই দলের যে কেউ বাংলাদেশ সময় মধ্যেরাতে মাতবে ইউরোপ সেরা হওয়ার আনন্দে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here