আজ রোববার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন। প্রথম ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা। লন্ডনের কেনিংটন ওভালে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৩টায়। আগের দিন অনুশীলনে হাতে চোট পেলেও এখন শঙ্কামুক্ত আছেন তামিম ইকবাল।

শুক্রবার নেটে ব্যাটিংয়ের সময় বাঁহাতের কব্জিতে আঘাত পান তামিম ইকবাল। ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়েন তিনি। হাতে কোন চিড় না ধরায়, প্রথম ম্যাচ খেলতে বাধা নেই দেশ সেরা এই ওপেনারের। ইনজুরি কাটিয়ে উঠেছেন মুস্তাফিজুর রহমানও। মাশরাফি ও সাইফকে নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও তেমন সমস্যা মনে করছেন না টিম ম্যানেজম্যান্ট। সব মিলিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী টাইগার বাহিনী।

আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ওডিআইতে দুই দেশ মোট ২০ বার মুখোমুখি হয়। যার মধ্যে বিশ্বকাপেই তিনবার। মুখোমুখি লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ১৬টি ম্যাচ জিতেছে প্রোটিয়ারা। বিপরীতে মাত্র ৪টি ম্যাচে জয় পায় বাংলাদেশ দল।

ওডিআইতে দুই দলের প্রথম দেখা ২০০২ সালের ৩ অক্টোবর। মাঠের লড়াইয়ে সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৬৮ রানে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আর সবশেষ মুখোমুখি ম্যাচটি ছিল ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর। লন্ডনে অনুষ্ঠতি সেই ম্যাচে ২০০ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা।

আসন্ন বিশ্বকাপের আগে আর তিন বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০০৩ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যাবধানে হারায় বাংলাদেশকে। সেবার ৩৫.১ ওভারে ১০৮ রানেই ঘুটিয়ে যায় টাইগাররা। জবাবে মাত্র ১২ ওভারেই জয়ের প্রান্তে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।

২০০৭ বিশ্বকাপে ফের মুখোমুখি হয় দুদল। আর সেবার প্রতিশোধের সাথে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আশরাফুলে ব্যাটিং নৈপুণ্যে প্রোটিয়াদের ৬৭ রানে হারায় টাইগাররা। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন আব্দুর রাজ্জাক।

দু দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে দলগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস প্রোটিয়াদের। ২০১৭ তে ইস্ট লন্ডন মাঠে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৬৯ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। সে ম্যাচে ৩৭০ রান তাড়া করতে নেমে টাইগাররা গুটিয়ে যায় ১৬৯ রানেই, আফ্রিকানরা জয় পায় ২০০ রানের বিশাল ব্যবধানে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ২৭৮/৭। মুশফিকুর রহীমের হার না মানা ১১০ রানের ইনিংসে সেদিন ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রান তোলে বাংলাদেশ। অবশ্য সেই ম্যাচ ১০ উইকেটে জিতে নেয় প্রোটিয়ারা।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে সর্বোচ্চ উইকেট প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদার। ২০১৫ সালে ঢাকার মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে নিজের অভিষেক ওয়ানডেতে ৮ ওভারে ১৬ রান দিয়ে চার উইকেট শিকারে করেছিলেন তিনি। টাইগারদের বিপক্ষে তার ওয়ানডে উইকেট সংখ্যা ১৩টি।

বিশ্বকাপের লড়াইয়ে সবশেষ বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হয় ২০১১ বিশ্বকাপে। ঢাকা অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ২০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় প্রোটিয়ারা। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান করে আফ্রিকা। জবাবে ২৮ ওভারে ৭৮ রান তুলতেই অলআউট হয় বাংলাদেশ দল। লজ্জার হার নিয়ে বিদায় নিতে হয় বিশ্বকাপ থেকে।

এদিকে হারের তিক্ততা নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগের ম্যাচের ভুল শুধরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘুরে দাড়াতে চায় প্রোটিয়ারা। এই ম্যাচ দিয়ে জয়ের ধারায় ফিরতে মারিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। কালই মাঠে নির্ধারণ হবে ভাগ্য কার পক্ষে থাকবে।

বাংলাদেশ দল : মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, মাশরাফি বিন মর্তুজা(অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মাহমুদুল্লাহ, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মোসাদ্দেক হোসেন, আবু জায়েদ রাহি, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান।

দক্ষিণ আফ্রিকা দল : ফাফ ডু প্লেসিস(অধিনায়ক), আইডেন মার্করাম, কুইন্টন ডি কক, হাশিম আমলা, রাসি ভ্যান ডরি ডুসেন, ডেভিড মিলার, আন্দিল ফেলুকুয়াও, জেপি ডুমিনি, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, ডেল স্টেইন, কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি, ক্রিস মরিস, ইমরান তাহির, তাবরিজ শামসি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here