গত বছরের মার্চে কেপটাউনে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে নিষিদ্ধ হওয়া ডেভিড ওয়ার্নার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই দারুণ এক ইনিংস খেললেন। শনিবার তার ইনিংস সেরা পারফরম্যান্সে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।

ওয়ার্নারের সঙ্গে এদিন ফিরেছিলেন একই ঘটনায় নিষিদ্ধ হওয়া স্টিভেন স্মিথ। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি তিনি। লক্ষ্য থেকে ৩ রান দূরে থাকতে মুজিব উর রহমানের স্পিনে হযরতউল্লাহ জাজাইয়ের ক্যাচ হন সাবেক অধিনায়ক। ২৭ বলে ১৮ রান করেন তিনি। স্মিথ আউট হওয়ার পর ক্রিজে নেমেই বাউন্ডারি মেরে দলকে জেতান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

ওয়ার্নারের সঙ্গে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের হাফসেঞ্চুরিতে ৩৪.৫ ওভারে ২০৯ রান করে অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেট হারিয়ে।

গত বছরের জানুয়ারিতে পার্থে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ওয়ার্নার। তার দুই মাস পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে বিতর্কিত কাণ্ডে জড়িয়ে এক বছর নিষিদ্ধ হন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ফিরেই দুর্দান্ত এক ইনিংস খেললেন তিনি।

ওয়ার্নারের সঙ্গে ফিঞ্চের ৯৬ রানের উদ্বোধনী জুটি সহজ জয়ের ভিত গড়ে দেয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ৪০ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে হাফসেঞ্চুরি করা ফিঞ্চ আউট হন ৬৬ রান করে। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক গুলবাদিন নাইবের শিকার হন তিনি। তার ৪৯ বলের ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ৪ ছয়।

উসমান খাজার সঙ্গে ৬০ রানের জুটি গড়ার পথে ১৮তম ফিফটি হাঁকান ওয়ার্নার। ৭৪ বলে ৬ চারে পঞ্চাশ ছোঁন তিনি। ১৫ রানে খাজা আউট হলে সাবেক অধিনায়ক স্মিথের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৪৯ রানের।

বেশ দেখেশুনে ক্রিজে ব্যাট করে গেছেন ওয়ার্নার। তার ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস ছিল ১১৪ বলের, ৮টি চার মারেন তিনি।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছিল আফগানিস্তানই। শুরুটা আশানুরূপ হয়নি। ইনিংসের তৃতীয় বলেই মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হয়ে যান মোহাম্মদ শাহজাদ। তখন স্কোরবোর্ডে কোন রান যোগ করতে পারেনি আফগানিস্তান। পরের ওভারে খালি হাতে আউট আরেক ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই। তবে আফগানদের আশা দেখিয়েছিল তৃতীয় উইকেট জুটি। রহমত শাহ ও হাসমতউল্লাহ শাহিদি মিলে ১২ ওভার সামলে গড়েন ৫১ রানের জুটি।

অসিদের বোলিং বদলেই ম্যাচ ঘুরে যায়। ১৪তম ওভারে বল হাতেই নিয়ে হসমতকে আউট করে জুটি ভাঙেন অ্যাডাম জাম্পা। নিজের তৃতীয় ওভারে আরেক সেট ব্যাটসম্যান রহমতকেও বিদায় করেন তিনি। যদিও এ আউটের কৃতিত্ব স্টিভ স্মিথেরই বেশি। দারুণ ক্যাচ ধরেছেন। পরের ওভারে দলের অন্যতম ভরসা মোহাম্মদ নবিও আউট হন স্মিথের কৃতিত্বে। দারুণ ফিল্ডিংয়ে রানআউট করেন নবিকে। তখন উপমহাদেশের বাকী দুই দলের লো স্কোরের কথাই মনে হচ্ছিল।

কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে অধিনায়ক গুলবাদিন নাইবের সঙ্গে নজিবুল্লাহ জাদরানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি পায় আফগানিস্তান। ৮৩ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটসম্যান। তবে ৩১তম ওভারে আরও একবার বোলিং পরিবর্তন কাজে দেয় অসিদের। দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে নিয়ে এ দুই সেট ব্যাটসম্যানকেই বিদায় করেন মার্কাস স্টয়নিস। পরের ওভারে দৌলত জাদরানের বিদায়ে মনে হচ্ছিল দুইশ রানের অনেক আগেই গুটিয়ে যাবে দলটি। ৮ উইকেটে তখন আফগানদের সংগ্রহ ১৬৬ রান।

কিন্তু বিস্ময় উপহার দিয়ে আফগানদের হাল ধরেন দুই স্পিনার রশিদ খান ও মুজিব উর রহমান। ঝড়ো গতিতে ব্যাট করতে থাকেন এ দুই ব্যাটসম্যান। আগের ওভারে জোড়া উইকেট নেওয়া স্টয়নিসের পরের ওভারে ২টি করে চার ও ছক্কায় ২১ রান তুলে নেন রশিদ। কামিন্সের পরের ওভারে ১টি করে চার ও ছক্কা মারেন মুজিবও। তবে এ জুটি ভাঙেন জাম্পা। তার বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়ার আগে মাত্র ১১ বলে ২৭ রান করেন রশিদ।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রানের ইনিংস খেলেন নজিবুল্লাহ। ৪৯ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। জাম্পার করা ২৯তম ওভারে টানা চারটি বাউন্ডারি মারেন এ ব্যাটসম্যান। যার শেষটি ছিল ছক্কা। এছাড়া রহমত ৪৩ ও অধিনায়ক গুলবাদিন ৩১ রান করেন।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৪০ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নিয়েছেন প্যাট কামিন্স। ৩টি উইকেট নিয়েছেন জাম্পাও। তবে খরচ করতে হয়েছে ৬০ রান। এছাড়া ২টি উইকেট পেয়েছেন স্টয়নিস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান: ৩৮.২ ওভারে ২০৭ (শাহজাদ ০, জাজাই ০, রহমত ৪৩, হাসমত ১৮, নবি ৭, গুলবাদিন ৩১, নজিবুল্লাহ ৫১, রশিদ ২৭, দৌলত ৪, মুজিব ১৩, হামিদ ১*; স্টার্ক ১/৩১, কামিন্স ৩/৪০, কোল্টার-নাইল ০/৩৬, স্টয়নিস ২/৩৭, জাম্পা ৩/৬০)।

অস্ট্রেলিয়া: ৩৪.৫ ওভারে ২০৯/৩ (ফিঞ্চ ৬৬, ওয়ার্নার ৮৯*, খাওজা ১৫, স্মিথ ১৮, ম্যাক্সওয়েল ৪*; মুজিব ১/৪৫, হামিদ ০/১৫, দৌলত ০/৩২, গুলবাদিন ১/৩২, নবি ০/৩২, রশিদ ১/৫২)।

ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া)।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here