নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রান্ডন ম্যাককালাম কি কুক্ষণেই না বাংলাদেশ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে গিয়েছিলেন। এরপর দিন চার এখনও পার হয় নি। এর মধ্যেই তাকে মোক্ষম জবাব দিয়ে দিয়েছে টাইগাররা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। অথচ ম্যাককালামের ভবিষ্যদ্বাণীতে জয় ছিল কেবল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই।

তাই সুযোগ বুঝে হয়তো নিজের মনোভাব বদলে ফেলেছেন ম্যাককালাম। টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন, ‘দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাল বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। আমার প্রত্যাশা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা জিতবে। কিন্তু বাংলাদেশ দারুণ খেলেছে। আমার ভবিষ্যদ্বাণীকে এভাবে ভুল প্রমাণ করায় ধন্যবাদ জানাই।’

টুইট এখানেই শেষ করেননি ম্যাককালাম। বাকী আছে আরও। সেখানে বলেছেন, ‘শেষ দল তারা হবে না, আমি মনে হয় শেষ পর্যন্ত গড়পড়তার একটি অবস্থানে থাকবে। সব জিততে পারবে না।’

অর্থাৎ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতলেও সব ম্যাচ কিংবা সেমি-ফাইনালে খেলতে পারবে না বাংলাদেশ। মাঝামাঝি গড়পড়তার একটা জায়গায় থাকবে। অথচ ওভালে এদিন শুরু থেকেই কি দারুণই না খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিটি বিভাগেই ভালো খেলে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ২১ রানের জয় তুলে নিয়েছে আগে ব্যাট করে নিজেদের রেকর্ড ৩৩০ রান সংগ্রহ করে দলটি। ইংল্যান্ডের মাঠে এমন রান হরহামেশা চেজ হলেও পা হরকায়নি টাইগাররা। দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে আফ্রিকাকে আটকে রেখেছে ৩০৯ রানে।

সেই ভবিষ্যদ্বাণীর পর থেকেই বাংলাদেশে ব্যাপক ভাবে নিন্দিত হয়ে আসছেন ম্যাককালাম। বিশেষ করে বাংলাদেশি ভক্তদের সমালোচনার মুখে পড়েন। মূলত বিশ্বকাপে কে কয়টি ম্যাচ জিতবে তার একটি হিসাব কষে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন। যেখানে লেখা ছিল বাংলাদেশ জিতবে কেবল একটি ম্যাচ। আর সেটা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আর শ্রীলঙ্কায় জিতবে একটি ম্যাচ।

সে পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর অবশ্য আরও একটি পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন এ সাবেক কিউই অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের কন্ডিশন এবং সেখানে এশিয়ার দলগুলো ফলাফলের ভিত্তিতে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি। তবে টাইগাররা শুরুতেই তাকে গলদ প্রমাণ করেছে। এখন সময় আরও বড় কিছু করে দেখানো। কারণ বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচই যে ম্যাককালামের দেশ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম যে প্রেডিকশন দিয়েছিলেন-

ইংল্যান্ড-

জিতবে ৮ ম্যাচে- (দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, উইন্ডিজ, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)।

হারবে ১ ম্যাচে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

ভারত-

জিতবে ৮ ম্যাচে- (দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, উইন্ডিজ, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে)।

হারবে ১ ম্যাচে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

অস্ট্রেলিয়া-

জিতবে ৬ ম্যাচে- (আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে)।

হারবে ৩ ম্যাচে- (উইন্ডিজ, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে) ।

নিউজিল্যান্ড-

জিতবে ৫ ম্যাচে- (শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উইন্ডিজদের বিপক্ষে) ।

হারবে ৪ ম্যাচে- (ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে)।

উইন্ডিজ-

জিতবে ৫ ম্যাচে- (পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে)।

হারবে ৪ ম্যাচে- (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে)।

দক্ষিণ আফ্রিকা-

জিতবে ৫ ম্যাচে- (বাংলাদেশ, উইন্ডিজ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে)।

হারবে ৪ ম্যাচে- (ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে)।

পাকিস্তান-

জিতবে ৫ ম্যাচে- (শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আফয়ানিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে)।

হারবে ৪ ম্যাচে- (উইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিক্র বিপক্ষে)।

আফগানিস্তান-

জিতবে ২ ম্যাচে- (শ্রীলঙ্কা ও বাংলদেশের বিপক্ষে)।

হারবে ৭ ম্যাচে- (অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান ও উইন্ডিজদের বিপক্ষে)।

শ্রীলঙ্কা-

জিতবে ১ ম্যাচে- উইন্ডিজদের বিপক্ষে।

হারবে ৮ ম্যাচে- (নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, অস্ট্রেইয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিপক্ষে)।

বাংলাদেশ-

জিতবে ১ ম্যাচে- শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

হারবে ৮ ম্যাচে- (দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, উইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে)

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here