সুদানের ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিল সে দেশের প্রধান বিরোধী জোটের সঙ্গে সকল চুক্তি বাতিল করে আগামী নয় মাসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। রাজধানী খার্তুমে সদর দপ্তরের সামনে ভয়াবহ গণহত্যার মাত্র একদিন পর এ ঘোষণা দিলো সামরিক কাউন্সিল।

সোমবার সকালে রাজধানী খার্তুমে সদর দপ্তরের সামনে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অতর্কিতে ‘হামলা’ চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। ওই হামলায় কমপক্ষে ৩৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত এবং আরো ১১৬ জন আহত হয়। গত এপ্রিলে গণ বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সেনা নিধনের তীব্র নিন্দা করেছে। মার্কিন সরকার সোমবারের ওই ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত হামলা’ বলে উল্লেখ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছেন, দেশটিতে গণতন্ত্রের দাবিতে গত প্রায় দুই মাস ধরে অবস্থান ধর্মঘট করছিলো বিক্ষোভকারীরা। সোমবার সেনাবাহিনী অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা বিক্ষোভকারীদের তাঁবুগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং অন্ধকবারের মধ্যে সেনারা বিক্ষোভকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া রাজধানীর সড়ক জুড়ে ব্যাপক সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এই হামলায় কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত এবং আরো ১১৬ জন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর হামলায় গুরুতর আহত রোগীদের বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

হামলার মাত্র একদিন পর মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সকল ধরনের আলোচনার চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সামরিক কাউন্সিল। একই সঙ্গে আগামী নয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তবে এই ঘোষণায় পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে বলে মনে হচ্ছে না। কেননা বিক্ষোভকারীরা ইতিমধ্যে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে সুদানি সেনাবাহিনী এরই মধ্যে হামলায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। সুদানের অ্যাটর্নি জেনারেল মাওলানা আল-ওয়ালিদ সাঈদ আহমেদ মাহমুদের দেওয়া ঘোষণার বরাতে মার্কিন গণমাধ্যম ‘সিএনএন’ জানায়, ‘রাজধানী খার্তুমের এই সেনা সদর দপ্তরের সামনে হওয়া এই সংঘর্ষের প্রকৃত তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সে যেই হোক, হামলায় দোষীদের অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে।’

অপর দিকে গত বছরের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া সুদানিজ প্রফেশনালস এসোসিয়েশনের (এসপিএ) পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেনা সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে অবস্থানরত লোকদের ছত্রভঙ্গ করতে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা তাদের শক্তি প্রয়োগ করছে। তাছাড়া সংগঠনটি নির্মম এই ঘটনাটিকে একটি রক্ষক্ষয়ী গণহত্যা হিসেবেও উল্লেখ করেছে।

গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয় সুদানিজ প্রফেশনালস এসোসিয়েশন (এসপিএ)। গণ বিক্ষোভের মুখে গত এপ্রিলে বশিরের কর্তত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও বিক্ষোভকারীরা সেনা সদর দপ্তরের বাইরে অবস্থান নিয়ে অস্থায়ী কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে সামরিক কাউন্সিলের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here