নবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহাবস্থান, পরম সহিষ্ণুতা, সাম্য ও সার্বজনীন কল্যাণ ধারণ করা ইসলামের মাঝে ঘৃণা, বিদ্বেষ, সহিংসতা ও কূপমণ্ডূকতার কোনো জায়গা নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বুধবার বঙ্গবভনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি হামিদ ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম আয়োজিত এ অনুষ্ঠান বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। ইসলামের মাঝে ঘৃণা, বিদ্বেষ, সহিংসতা ও কূপমণ্ডূকতার কোনো জায়গা নেই। ইসলাম মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহাবস্থান, পরম সহিষ্ণুতা, সাম্য ও সার্বজনীন কল্যাণ ধারণ করে।’

তিনি উল্লেখ করেন, রমজান মাস মুসলিমদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যা সংযম, সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। ‘যদি রমজানের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবনে প্রতিফলিত হয়, তাহলে সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।’

‘দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিও অপরিহার্য। ধর্ম হলো জীবনের উৎস পথ, তা আলোকিত মানুষ গড়তে প্রেরণা যোগায়,’ যোগ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদ মানে আনন্দ। ‘মাসব্যাপী সিয়াম, সাধনা ও সংযমের পর ঈদুল ফিতর খুশি বার্তা নিয়ে আসে। এ আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে যাক।’

তিনি আরও বলেন, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে বড় শহরগুলোতে বাস করা মানুষজন গ্রামে তাদের প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যান এবং নিজেদের মাঝে সম্প্রতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য গড়ে তুলেন।

আবদুল হামিদ ধনী-দরিদ্রদের ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার আহ্বান জানান। সেই সাথে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো সম্প্রতি ও বন্ধনের পুনর্মিলন হবে।

ইসলামের বার্তা ও আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ ও সারাবিশ্বের মানুষকে শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানান।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক, শিল্পী এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা সংবর্ধনায় যোগ দেন।

সেই সাথে কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here