বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শোচনীয় পরাজয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের দেখা পেল শ্রীলঙ্কা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বোলারদের নৈপুণ্যে বৃষ্টি আইনে ৩৪ রানের জয় পায় শ্রীলঙ্কা। টানা দুই হারে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে আফগানিস্তান।

অল্প পুঁজিতেও দারুণ লড়াই করে জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। আফগানিস্তানের ইনিংস থেমে যায় ১৫২ রানে।

শ্রীলঙ্কার দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণের সামনে আফগানদের ব্যাটিং ধস নামে। প্রদীপ ৩১ রানে চারটি এবং মালিঙ্গা ৩৯ রানে তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

এর  আগে ১৪ ওভারের মধ্যেই ৬৫ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়েছে আফগানিস্তান। মালিঙ্গা, উদানা ও প্রদীপের পেসে রীতিমত হাবুডুবু খায় আফগানিস্তানের টপ অর্ডার।

শেহজাদ সাত রানেই ফেরত যান। জাজাই নিজের মতই খেলতে চেয়েছেন। ২৫ বলে ৩০ করেছেন তিনি। তাঁকে ফেরান প্রদীপ। একে একে রহমত শাহ, হাসমত উল্লাহ, নবী ফেরত যান। ১৫ ওভারে ৬৯ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান।

বৃষ্টি আইনে জিততে হলে আফগানিস্তানকে করতে হবে ১৮৭ রান। তবে তা করতে হবে ৪১ ওভারে।

বৃষ্টির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। কার্ডিফে অবশেষে খেলা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে।

বৃষ্টির আগে ৩৩ ওভার পর্যন্ত খেলা হয়। তাতে আট উইকেটে ১৮২ রান করে শ্রীলঙ্কা। ওই সময় মাঠে ছিলেন লাকমল ও মালিঙ্গা। বৃষ্টির পর ব্যাট শুরু করেন তাঁরা। তবে নেমেই দাওলাত জাদরানের বলে বোল্ড হয়ে যান মালিঙ্গা।

শ্রীলঙ্কার রান ছিল ২০ ওভারে এক উইকেটে ১৪২ রান। ২০ ওভারের পর শুরু হল নবীর ঝড়। আফগানিস্তানের এই অলরাউন্ডার একে একে তিনটি উইকেট তুলে নেন। ২৩ ওভারে শ্রীলঙ্কার রান ১৪৯; নেই পাঁচটি উইকেট! উইকেট নেওয়ার মিছিলে তখন যোগ দিয়েছেন হামিদ হাসান।

যত সময় গেছে শ্রীলঙ্কা আরো শ্রীহীন হয়েছে। ১৮২ রানে আট উইকেট নেই শ্রীলঙ্কার। খেলা হয়েছে ৩৩ ওভার। এরপরই নামল বৃষ্টি। কার্ডিফের ওই বৃষ্টি আপাতত মান রক্ষা করছে করুনারত্নেদের। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ আছে।

নবীর তোপে ২৭ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৬৬। করুণারত্নে, কুশাল পেরেরা, থিরিমান্নে ও উদানা ছাড়া কেউ দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। বৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটাই ছিল চিত্র। নবী ও হামিদ মিলে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি তুলে নেন রশিদ খান। দেখে শুনে খেলতে থাকা কুশাল পেরেরা রশিদের বলে শেহজাদকে ক্যাচ দেন। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে পেরেরা করেন ৭৮ রান।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর কথাই জানান অধিনায়ক করুনারত্নে। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে যাওয়ার পর অধিনায়ককে আশাবাদী করে তোলেন ব্যাটসম্যানরা। ২০ ওভারেই ১৪২ তুলে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিতও দেন তাঁরা।

তবে ২২তম ওভারেই আঘাত করেন আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী। ২০ ওভারে এক উইকেটে ১৪২ রানের শ্রীলঙ্কার স্কোর, ২৩ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১৪৯ রান। চারটি উইকেটেই নিয়েছেন নবী। ২৩তম ওভারে ধনঞ্জয় ডি সিলভাকেও ফিরিয়ে দেন হামিদ হাসান।

নিজের প্রথম পাঁচ ওভারে ১৫ রান দিয়ে চারটি উইকেট নিয়েছেন নবী।

কুশল পেরেরাকে নিয়ে ওপেন করেন অধিনায়ক করুনারত্নে। ৪৫ বলে ৩০ রান করে নবীর বলে নজিবুল্লাহকে ক্যাচ দেন তিনি। তবে ওয়ান ডাউনে নামা থিরিমান্নেকে নিয়ে বড় সংগ্রহের দিকে চোখ রাখেন পেরেরা। এরই মধ্যে অর্ধশতক করে ফেলেন তিনি। তবে ২০ ওভারের পরই থিরিমান্নেকে বোল্ড করেন নবী। ৩৪ বলে ২৫ রানে আউট হন তিনি।

আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে নবীই সমীহ জাগানো বল করছেন। থিরিমান্নের পর নামা কুশাল মেন্ডিসকে মাত্র দুই রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান নবী। তাঁর স্পিনে স্লিপে থাকা রহমত শাহকে ক্যাচ দেন মেন্ডিস। মেন্ডিসের পর আসা অ্যাঞ্জেলা ম্যাথুসকেও ফেরান নবী। সেই রহমত শাহের কাছে ক্যাচ দেন তিনি।

আইসিসির ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে আছে শ্রীলঙ্কা, ১০ নম্বরে আফগানিস্তান। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক গুলবদিন।

প্রথম ম্যাচে দুই দলই শোচনীয়ভাবে হেরে গেছে। নিউজিল্যান্ডের কাছে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে লজ্জাজনকভাবে হেরেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কাছে আট উইকেটে হেরেছে দ্বিতীয়বার বিশ্ব আসরে খেলতে আসা আফগানিস্তান।

বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত একবারই মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। গত বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে ছয় উইকেটে পরাজিত করে শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাট করে ২৩২ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। মালিঙ্গা নেন তিন উইকেট। জবাবে ছয় উইকেটে ২৩৬ রান করে শ্রীলঙ্কা। মাহেলা জয়াবর্ধনে ওই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here