আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সে আশা শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি। কারণ ম্যাচে খুব বড় পুঁজি গড়ে দিতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা। তারপরও শেষ পর্যন্ত লড়ে হেরে গেল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের দেয়া ২৪৪ রানের জবাবে ব্যাট নামে। তবে এদিন ভালো ভাবেই শুরু করে কিউইরা। ম্যাচের একটা সময় পুরো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় নিউজিল্যান্ড। টাইগার বোলার মিরাজ, সাইফদ্দিন এবং সৈকত বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান। এক সময় অল্প পুঁজি নিয়ে লড়ে যায় মাশরাফিরা।

অন্যদিকে, ২ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কিউইরা। ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭ বল হাতে রেখে ২৪৮রান করে নিউজিল্যান্ড।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৪৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। সাইফউদ্দিনের শেষদিকের ঝড়ো ২৯ রানের উপর ভর করে ৪৯.২ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে সম্মানজনক এ রান পায় টাইগাররা। । দলের পক্ষে সাকিব সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন। এছাড়া তামিম ২৪, সৌম্য ২৫, মুশফিক ১৯, মিথুন ২৬, মাহমুদউল্লাহ ২০ ও সাইফউদ্দিন ২৯ রান সংগ্রহ করেন। জিততে হলে নিউজিল্যান্ডকে করতে হবে ২৪৫ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয়ের পর বুধবার (৫ জুন) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় জয়ের লক্ষ্যে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় কেন উইলিয়ামসন। প্রথমে ব্যাট করতে নামা দুই টাইগার ওপেনার দেখে শুনেই ইনিংস শুরু করেন।

তবে বিপর্যয় ঘটে ৮.৩ ওভারে ম্যাট হেনরির বলে। সৌম্যকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান এই পেসার। ২৫ বলে ২৫ করেন সৌম্য। ৪৫ রানে সৌম্যের বিদায়ের পর স্কোর বোর্ডে ১৫ রান যুক্ত করতেই বোল্টের তালুবন্দি হন তামিম ইকবাল। ফার্গুসনের বলে ২৪ করে আউট হন তামিম।

দুই ওপেনার সৌম্য-তামিমের বিদায়ের পর দলকে একাই টেনে নিয়ে যান সাকিব। কিছু সময় মুশফিকের সাথে জুটি বাঁধলেও রান আউটের শিকার হন মুশফিক। এরপর মিঠুনকে সঙ্গী করে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় মাচে টানা দ্বিতীয় অর্ধশত তুলে নেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

দারুণ ব্যাটিং ছন্দে থাকা সাকিব নিজের শেষ ছয় ম্যাচে তুলে নিয়েছে পাঁচ অর্ধশত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মারমুখি সাকিব তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৪৪তম অর্ধশত। আগের ম্যাচে ৭৫ রান করা সাকিব এ দিন ৬৪ রানে সাজঘরে ফিরেন। ৬৮ বলে ৭ চার আসে সাকিবের ব্যাট থেকে। সাকিব আউট হওয়ার পর ব্যক্তিগত ২৬ রানে মিথুনও দ্রুত ফিরে যান।

এরপর মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হাল ধরার চেষ্টা করলেও তারাও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ধীরগতির ইনিংস খেলে দুইজনই বিদায় নিলে চাপে পরে টাইগাররা। এরপর শেষদিকে সাইফউদ্দিন একাই লড়ে যান দলের পক্ষে। মিরাজ, মাশরাফি কেউই তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। তিনি ঝড়ো ব্যাটিং করে তিন চার ও এক ছয়ে ২৩ বলে ২৯ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের উপর চড়াও হন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার। ৫ ওভারেই তুলে নেন ৩৫ রান। ব্যাটিংয়ে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করা সাকিব বোলিংয়ে এসেই তুলে নেন মার্টিন গাপটিলের উইকেট। দলীয় ৩৫ রানে ১৪ বলে ২৫ রান করে সাকিবের বলে তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর ৫৫ রানে আরেক ওপেনার মুনরোকে ফেরান সাকিব। এরপর দলের হাল ধরেন উইলিয়ামসন ও টেইলর। ১০৫ রানের ম্যাচজয়ী জুটি গড়ে তুলেন এই দুজন। তরুণ স্পিনার মিরাজের বলে ব্যক্তিগত ৪০ রানে উইলিয়ামসন আউট হলে এ জুটি ভাঙে।এরপর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে কিউইরা। একই ওভারে মিরাজের পরের শিকার হন টম লাথাম। পরের ওভারেই মোসাদ্দেকের বলে ব্যক্তিগত ৮২ রানে ফিরে যান টেইলর। এরপর জেমস নিশাম ও গ্রান্ডহোম নিউজিল্যান্ডকে জয়ের পথেই রাখেন। দলীয় ২১৮ রানে সাইফউদ্দীনের বলে অসাধারণ ক্যাচ ধরে গ্রান্ডহোমকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখালে ম্যাচ জমে উঠে। নিশাম ব্যাক্তিগত ২৫ রানে মোসাদ্দেকের বলে সৌম্যের হাতে ক্যাচ দিলে ম্যাচে পুরোপুরি ফিরে আসে বাংলাদেশ। এরপর ম্যাট হেনরি ও স্যান্টানারের সাবধানী ব্যাটিং জয়ের পথ দেখায় নিউজিল্যান্ডকে। জয় থেকে ঠিক সাত রান দূরে থাকতে হ্যানরিকে নিজের শিকারে পরিণত করেন সাইফউদ্দিন। কিন্তু এরপর আর কোন উইকেট না হারিয়েই ৪৭.১ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ড দুই উইকেটে ম্যাচ জিতলেও ক্রিকেটপ্রেমীরা উপভোগ করলো শ্বাসরুদ্ধকর একটি ম্যাচ।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মুস্তাফিজুর রহমান।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: মার্টিন গাপটিল, কলিন মুনরো, কেন উইলিয়ামসন, রস টেইলর, টম ল্যাথাম, জিমি নেশাম, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, মিচেল স্যান্টনার, ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন ও ট্রেন্ট বোল্ট।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here