বিশ্বকাপের দশম ম্যাচে নটিংহামে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৫ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার ছুঁড়ে দেয়া ২৮৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২৭৩ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস।

 ব্যাটিংয়ের শুরুতেই টপ অর্ডার ধসে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার। ভঙ্গুর সে অবস্থা থেকে স্মিথ লড়াই চালিয়ে যান। শেষ দিকে কোন্টার-নাইল জড় তুলে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেন দলটির। পরে বল হাতে দ্রুতই ২টি সাফল্য পেয়ে কিছুটা স্বস্তিতে ছিল অজিরা। কিন্তু শেই হোপ গলার কাঁটা হয়ে একটা বেশ জ্বালাচ্ছিলেন ফিঞ্চদের। তবে ব্যক্তিগত ৬৮ রানে তাকে দারুণ এক ডেলিভারিতে ফেরান কামিন্স। তারপরও জয়ের পাল্লাটা ক্যারিবীয়দের দিকে ছিল। শেষ পর্যন্ত বল হাতে দ্রুত জেসন হোল্ডার ও কার্লোস ব্রাথওয়েটকে ফিরিয়ে দিতে অজি শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে জয়ের পথ তৈরি করে দেন স্টার্ক। শেষ ওভারে কোল্টার নাইল চারটি চার খেলেও ১৫ রানের জয় থেকে বঞ্চিত করেননি অজিদের।

২৮৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা হয়েছিল বাজে। ৩১ রানের মধ্যে প্যাট কামিন্স ও মিশেল স্টার্কের তোপে দুই ওপেনার এভিন লুইস (১) ও ক্রিস গেইলকে (২১) হারায় ক্যারিবীয়রা। তবে তৃতীয় উইকেটে দলটির আশা দেখান শেই হোপ ও নিকলস পুরান। তৃতীয় উইকেটে তারা করেন ৫৮ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত ফিঞ্চের দুর্দান্ত ক্যাচে পুরানকে (৪০) ফিরিয়ে বিপজ্জনক এ জুটি ভাঙেন অ্যাডাম জাম্পা। তারপরও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি অজিদের। এক প্রান্ত আগলে রেখে শিমরন হেটমায়ারকে নিয়ে শেই হোপ খেলেন দুর্দান্ত। তারা গড়েন ৫০ রানের জুটি। ঠিক সে সময় হেটমায়ারকে রান আউটের ফাঁদে ফেলেন কাসিন্স-ম্যাক্সওয়েল। তাতে ম্যাচে ফেরে অস্ট্রেলিয়া। পরে ইনিংসের ৩৫তম ওভারের শেষ বলে হোপকে ফিরিয়ে অজিদের জয়ের স্বপ্ন আরও বেশি করে দেখান সেই জাম্পা। ফেরার আগে হোপ করেন ১০৫ বলে ৭ চারে ৬৮ রান।

হোপ ফিরলেও অস্ট্রেলিয়াকে চোখ রাঙানি দিচ্ছেলেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসান হোল্ডার। বলে বলে রান নিয়ে ক্যারিবীয়দের জয়ের পথও সুগম করেছিলেন এ ডানহাতি। শেষ দিকে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন কার্লোস ব্রাথওয়েট। এর মধ্যে দারুণ এক হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন হোল্ডার। তবে ইনিংসের ৪৬তম ওভারের তৃতীয় বলে ব্রাথওয়েট (১৬) ও ষষ্ঠ বলে হোল্ডারকে (৫১) ফিরিয়ে উইন্ডিজের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয়ার ইঙ্গিত দেন স্টার্ক। এক ওভার পরই এ বাঁহাতি কটরেলকে করেন বোল্ড। তখনও হোল্ডার বাহীনির জিততে দরকার ১৬ বলে ৩৩ রান। শেষ পর্যন্ত পারেনি দলটি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১০ ওভারে ১ মেডেনসহ ৪৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক। এদিকে প্যাট কামিন্স ১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ২টি উইকেট। অ্যাডাম জ্যাম্পার স্বীকার ১ উইকেট।

এরআগে বৃহস্পতিবার দ্বাদশ বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস ভাগ্য ছিল না অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। যে কারণে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ক্যারিবিয়ান পেসারদের সামলাতে দিশেহারা হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা। তৃতীয় ওভারে গতিময় পেসার ওশান টমাসের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরেন অ্যারন ফিঞ্চ। কিছুক্ষণ পরই শেলডন কটরেলের পেসে ডেভিড ওয়ার্নারও ধরেন সাজঘরের পথ। এদিকে দ্রুতই উসমান খাওয়াজাকে কট বিহাইন্ড করেন আন্দ্রে রাসেল। সেই রেশ থাকতে থাকতেই আবারও কটরেল আঘাত করেন অজি শিবিরে। এ ডানহাতি এবার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে তুলে নেন। সে সময় ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

দলের বিপদের সময় ২২ গজে গিয়ে শট খেলতে শুরু করেছিলেন মার্কাস স্টয়নিস। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। জেসন হোল্ডারের বলে ফিরে যান এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তবে এক প্রান্তে আগলে ছিলেন স্মিথ। অন্য প্রান্তে উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স কেয়ারি। প্রথমে তিনি খেলেন ধীরে ধীরে। পরে নিজেকে ফিরে পেয়ে বাড়ান রানের গতি। ৭ চারে ৪৫ রান করা কেয়ারিকে কট বিহাইন্ড করে ৬৮ রানের জুটি ভাঙেন রাসেল। এরপর কোল্টার-নাইলকে নিয়ে ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর চড়াও হন স্মিথ। সপ্তম উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার আগের সেরা ৭০ ছাড়িয়ে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলেন তারা। এর কিছুক্ষণ পরই স্মিথকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক এ জুটি ভাঙেন শেলডন কটরেল। ফেরার আগে স্মিথ করেন ৭ চারে ৭৩ রান।

স্মিথ ফিরলেও অজিদের রান তিনশর কাছে নিয়ে যান কোল্টার-নাইল। ওয়ানডেতে নিজের আগের সেরা ৩৪ ছাড়িয়ে আট চার ও চার ছয়ে ৯২ রান করেন কোল্টার-নাইল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ব্র্যাথওয়েট ৬৭ রানে নেন ৩ উইকেট। রাসেল, কটরেল ও টমাস নেন দুটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ১৫ রানে জয়ী অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়া ইনিংস: ২৮৮ (৪৯ ওভার)

(ডেভিড ওয়ার্নার ৩, অ্যারোন ফিঞ্চ ৬, উসমান খাজা ১৩, স্টিভেন স্মিথ ৭৩, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ০, মার্কাস স্টয়নিস ১৯, আলেক্স ক্যারি ৪৫, নাথান কুল্টার-নাইল ৯২, প্যাট কামিন্স ২, মিচেল স্টার্ক ৮, অ্যাডাম জাম্পা ০*; ওশানে থমাস ২/৬৩, শেল্ডন কটরেল ২/৫৬, আন্দ্রে রাসেল ২/৪১, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ৩/৬৭, জ্যাসন হোল্ডার ১/২৮, অ্যাশলে নার্স ০/৩১)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস: ২৭৩/৯ (৫০ ওভার)

(ক্রিস গেইল ২১, এভিন লুইস ১, শাই হোপ ৬৮, নিকোলাস পুরান ৪০, শিমরন হেটমায়ার ২১, জ্যাসন হোল্ডার ৫১, আন্দ্রে রাসেল ১৫, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ১৬, অ্যাশলে নার্স ১৯*, শেল্ডন কটরেল ১, ওশানে থমাস ০*; মিচেল স্টার্ক ৫/৪৬, প্যাট কামিন্স ২/৪১, নাথান কুল্টার-নাইল ০/৭০, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ০/৩১, অ্যাডাম জাম্পা ১/৫৮, মার্কাস স্টয়নিস ০/১৮)।

ম্যাচ সেরা: নাথান-কুল্টার নাইল (অস্ট্রেলিয়া)।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here