বিশ্বকাপে শনিবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। পয়মন্ত কার্ডিফে গড়াবে ম্যাচটি। এ মাঠে কখনো হারেনি টাইগাররা।এর আগে দুটি ম্যাচ খেলে প্রত্যেকটিতেই জয়লাভ করে তারা। ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়াকে এবং ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

বাংলাদেশের বর্তমান কোচ ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার স্টিভ রোডস। এবারের বিশ্বকাপে একমাত্র ইংলিশ কোচ তিনি। কৌতুহলী ক্রিকেটপ্রেমীর প্রশ্ন, এ ম্যাচে নিজেকে কী করে শান্ত রাখবেন রোডস?

জবাবে তিনি বলেন, ইংল্যান্ড হট ফেভারিট। আর আমি আন্ডারডগ থাকতেই পছন্দ করি। হারানোর কিছু নেই। আর যদি জিতে যাই তা হলে সেটা বড় দলের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনতাই করে নেয়ার মতো ব্যাপার হবে। আমি আপাদমস্তক ইংলিশ হলেও বাংলাদেশের হয়ে তাদের হারাতে চাই।

ক্রিকেটীয় পরিবারেই বেড়ে ওঠা রোডসের। ইংল্যান্ডের হয়ে ১১ টেস্ট ও ৯ ওয়ানডের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চেয়ে বেশি পরিচিত তিনি নিজের ক্লাব উরস্টারশায়ারের কোচ ও প্রশাসক হিসেবে। তবুও গত বছরের জুনে যখন বাংলাদেশের হেড কোচ হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়, অনেকেই কপাল কুঁচকেছিলেন। অথচ সেই তিনিই ধীরে ধীরে হয়ে উঠছেন টাইগার ক্রিকেটের গূরুত্বপূর্ণ চরিত্র। প্রথম কোনো ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতে তো ইতিহাসেই নাম লিখিয়ে ফেলেছেন।

রোডসের সরল স্বীকারোক্তি, আমি হয়তো তালিকার নিচের দিকেই ছিলাম। অন্যরা দায়িত্ব নেয়নি বলে আমার কপাল খুলেছে। শুরুতে ভালো কোচ ছিলাম না। ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছি।

কথাবার্তার মতো আচরণেও এরকম সরল ৫৪ বছর বয়সী কোচ। মুখে স্মিত হাসি লেগেই থাকে। চশমা চোখে রীতিমতো প্রফেসর মনে হয়। ক্লাসরুমের বদলে ক্রিকেট মাঠে থাকলেও চলাফেরায় একেবারে ধীরস্থির। ক্রিকেটারদের ছাত্রের চেয়ে বন্ধুই মনে করেন বেশি।

রোডস বলেন, ফুটবল ম্যানেজারেরা হাফটাইমে অনেক কিছু ছুড়ে মারেন। তবে সবসময় এমনটা করা যায় না। এর কোনো মূল্য নেই। আমার দর্শন হলো- খেলোয়াড়দের বোঝা। কারো পিঠে হাত বুলাচ্ছি, আবার কারো সঙ্গে প্রয়োজনে একটু কঠোর হচ্ছি। যে মূহুর্তে দলের জন্য যেটা দরকার।

এ শান্তশিষ্ট মানুষটিও অবশ্য বিশ্বকাপ ঘিরে নিজের হৃদস্পন্দন ঠিকই টের পাচ্ছেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ বিশাল ব্যাপার। কিন্তু আমি নিজেকে সবসময় শান্ত রাখছি।

কারণ এখানে অন্য যেকোনো ওয়ানডে ম্যাচের মতো শেষ পর্যন্ত বেসিকটাই ভালো করতে হয়। খেলোয়াড়দেরও রিল্যাক্স রাখার চেষ্টা করছি। খুব বাড়তি কিছু করছি না। কারণ বেশিরভাগ সময় ক্রিকেটারেরা খুব বেশি কিছু করতে গেলেই সমস্যা তৈরি হয়।

আপাতত নিজের দীর্ঘদিনের ইংলিশ অভিজ্ঞতা মাশরাফি-সাকিবদের ঢেলে দিচ্ছেন রোডস। লর্ডস, ওভাল, প্রতিটি ভেন্যু তার নখদর্পণে। ক্রিকেটারদের নানা কৌতূহল প্রতিনিয়ত মিটিয়ে চলেছেন। বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদটা ঠিকই টের পাচ্ছেন। নিজের ওপরও একটা চাপ আছে বৈকি। তবে সবাইকেই বাস্তববাদী হওয়ার আহবান তার।

অভিজ্ঞ এ কোচ বলেন, এখানে যেটা ভালো লাগে, সবাই সেরা ফলফলটা চায়, জিততে চায়। আমি জানি, বিশ্বকাপে আমার পারফরম্যান্সও মূল্যায়ন হবে। সেটাই নিয়ম। এদেশে ক্রিকেট নাম্বার ওয়ান। তবে সবাইকে বাস্তববাদী হতে হবে। বাংলাদেশের ভালো সম্ভাবনা আছে। একবার সেমিতে গেলে যেকোনো কিছুই হতে পারে।

বাংলাদেশ পঞ্চপাণ্ডবের দল। রোডস অবশ্য প্রবল আপত্তি তোলেন এখানে! সাকিব, তামিম, মাশরাফি, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে মোস্তাফিজকে ঢুকিয়ে তালিকাটা ৬ জনের করতে চান। তিনি বলেন, সাকিবের অনেক কিছু প্রমাণ করা বাকি। আইপিএলে এবার একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। সে পারফরম্যান্সের জন্য ক্ষুধার্ত থাকবে। মাশরাফিও সফল হতে চাইবে। সে এখন এমপি। হয়তো এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। মুশফিক, রিয়াদ, তামিম প্রত্যেকেই সেরা ফর্মে আছে। তাদের অভিজ্ঞতা ভীষণ কাজে দেবে।

বিশ্বকাপে ১০ দলের মধ্যে তিনিই একমাত্র ইংলিশ হেড কোচ। আবার কোচ হিসেবে এটাই তার প্রথম বিশ্বকাপ। আর সেটাও ইংল্যান্ডের মাটিতে। বর্ষীয়ান এ কোচ বলেন, এটা ভীষণ গর্বের। খুবই উত্তেজনাকর। আর এ কারণেই আমি নিজেকে প্রতিনিয়ত শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। আশা করছি দারুণ টুর্নামেন্ট হবে। তবে আমাদের দর্শকদের একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। আমরা হয়তো খুব টাইট কোনো ম্যাচ হেরে যাব, আবার কিছু জিতব। তবে সেরাটাই দেব আমরা।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here