তুর্কি বংশোদ্ভূত সাবেক জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিলের বিয়েতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। গতকাল শুক্রবার তুরস্কের রাজধানী ইস্তানবুলের বস্পোরাস স্ট্রিটের অভিজাত এক হোটেলে সাবেক এই তারকা ফুটবলারের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় স্ত্রীকে নিয়ে হাজির হন এরদোগান। খবর বিবিসি।

গত বছর বিশ্বকাপের আগে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাথে তোলা ছবি পোস্ট করায় ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়েন ওজিল। তখন বর্ণবিদ্বেষ এবং অসম্মানের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে যান তিনি।

দীর্ঘদিন প্রেম করার পর বাগদত্তা, সাবেক মিস তুর্কি আমিনি গুলসিকে বিয়ে করলেন ৩০ বছর বয়সী আর্সেনাল মিডফিল্ডার ওজিল। ২০১৭ সাল থেকে তার তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপরের বছরের জুনে বাগদান করার ঘোষণা দেন তারা।

এ বছর মার্চে যখন তার বিয়েতে এরদোগানকে প্রধান অতিথি করার ঘোষণা দেন তখন নিজ দেশ জার্মানিতে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েন এই তারকা খেলোয়াড়।

জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের প্রধান স্টাফ বেল ব্রাউন সে সময় বলেছিলেন, বিয়েতে এরদোগানকে প্রধান অতিথি হিসেবে পছন্দ করে আবারও একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটালেন ওজিল। এ সময় গত বছর এরদোগানের সাথে ওজিলের সাক্ষাতের বিষয়টিও টেনে আনেন তিনি।

এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্টকে এবার বিভিন্ন সময় অনেকগুলো বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাকে বেশি বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে ওজিলের বিয়েতে এমন একটি সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত হলেন এরদোগান যখন ইস্তানবুলের আর কিছু দিন পরেই পুনরায় মেয়র নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
আগামী ২৩ জুন ইস্তানবুলে পুনর্বার মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচনে খুব অল্পের ব্যবধানে বিরোধীদের কাছে পরাজিত হয় এরদোগানের দল একেপি। এরপরই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সেটি বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের ঘোষণা দেয় দেশটির নির্বাচন কমিশন।

পুনর্নির্বাচনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তখন দেশ বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধীরা তখন ব্যাপক বিক্ষোভ করে। জার্মান, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তখন পুনর্নির্বাচনের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক সমালোচনা করে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ওজিল তৃতীয় প্রজন্মের তুর্কি-জার্মান নাগরিক। জার্মানির হয়ে ৯২ ম্যাচ খেলা ওজিল ২০১১ সাল থেকে পাঁচবার বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। কিন্ত গত রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে এরদোগানের সাথে সাক্ষাৎ করে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করায় দলের প্রতি তার বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

তবে তার সমালোচনা আরও জোরদার হয় যখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলটি প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে। খুবই বাজে ফলাফল করে বাদ পড়ায় সে সময় জাতীয় দল থেকে অবসারের কথা জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন ওজিল।

সেখানে তিনি জানান, বিশ্বকাপে জার্মানি খারাপ করায় তাকে দায়ী করে ঘৃণা এবং হুমকি দিয়ে মেইল পাঠানো হচ্ছে।

সে সময় আবেগতাড়িত হয়ে বলেছিলেন- যখন আমরা জিতে যায় তখন আমি একজন জার্মান, আর হেরে গেলে তখন আমি অভিবাসী হয়ে যায়। যদিও তার অতীত সফলতা থাকুক। এ কারণে আর জার্মানির জার্সি গায়ে জড়ানোর ঘোষণা দেন ওজিল।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here