বিশ্বকাপে আজ দিনের একমাত্র ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে মিশন শুরু করা জেসন হোল্ডারের উইন্ডিজ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার কাছে। যদিও আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণেই নাটিংহ্যামের ম্যাচটা ছিল বেশি আলোচিত। অন্যদিকে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথমবারের মতো প্রথম তিন ম্যাচে টানা হারের বৃত্তে বন্দী ফ্যাফ ডুপ্লেসিসের দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃষ্টি বা অন্য সমীকরণ পরের বিষয়, সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখতে বাকি ম্যাচগুলোতে জিততে হবে প্রোটিয়াদের। আজ ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই সেটা শুরু করতে হবে। তবে ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে বিধ্বস্ত ডুপ্লেসিসদের জন্য কাজটা ভীষণ কঠিন। পাওয়ার হিটার সব ব্যাটসম্যানে ঠাসা ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে আজ দক্ষিণ আফ্রিাকাকে প্রতিটি বিভাগে একসঙ্গে জ্বলে উঠতে হবে। সাউদাম্পটনে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ মিশনটা শুরু হয়েছিল স্বপ্নের মতো। নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ১০৫ রানে অলআউটের লজ্জায় ডুবিয়ে হোল্ডারের দল জিতেছিল ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। পেস বোলিংয়ের আগুন ঝরিয়ে পাকিদের পুড়িয়েছিলেন ওশেন থমাস (৪/২৭), আন্দ্রে রাসেলরা (২/৪)। অল্প টার্গেটে নেমে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন বড় তারকা ক্রিস গেইল। ৩৪ বলে খেলেছিলেন ৫০ রানের স্বভাবসুলভ ইনিংস। দ্বিতীয় ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকেও কাঁপিয়ে দিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। এক পর্যায়ে ৭৯ রানে ৫ উইকেট হারানো অসিরা শেষ পর্যন্ত ২৮৮ রানে অলআউট হয়। জবাবে ৯ উইকেটে ২৭৩-এ থামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারে ১৫ রানে। ম্যাচে পাঁচ-পাঁচটি ভুল সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার গ্যাফানি, যার তিনটিই ছিল ক্রিস গেইলের বিপক্ষে। নিউজিল্যান্ড আম্পায়ার যেন প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়াকে জেতানের ইজারা নিয়েছিলেন। বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ সেটি। এমনকি ১৭ বলে ২১ রান করা গেইল যে মিচেল স্টার্কের বলে এলবিডব্লিউ হন, তার আগের ডেলিভারিতেও ‘নো’ দিয়েছিলেন স্টার্ক, কিন্তু আম্পায়ার সেটি এড়িয়ে যান!

ধারাভাষ্য কক্ষে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি মাইকেল হোল্ডিং উষ্মা প্রকাশ করায় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাকেসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল ধারাভাষ্যকারকে সতর্ক করে দেয়! সে যাই হোক, প্রথম দুটি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এত ভাল খেলবে, সেটি হয়তো অনেকেই অনুমান করেননি। অন্তত বিশ্বকাপের ঠিক আগেই আয়ার‌্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর। তবে মূল লড়াইয়ে তাদের ব্যাটিং-লাইন সত্যি ভয়ঙ্কর। গেইলের সঙ্গে ওপেনিংয়ে এভিন লুইস, টপঅর্ডারে শাই হোপ, নিকোলাস পুরান, শিমরন হেটমায়ার, লোয়ার-মিডলে হোল্ডার, আন্দ্রে রাসেল, সত্যি ভয়ঙ্কর। বোলিংয়ে ওশেন থমাস, জর্জ কটরেলের সঙ্গে আছেন অধিনায়ক হোল্ডার এবং রাসেল। স্পিনে এ্যাশলে নার্স। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার এবারের বিশ্বকাপটা শুরু হয়েছে দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে। উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের ৩১১ রানের জবাবে মাত্র ২০৭ রানে অলআউট প্রোটিয়ারা হারে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে। পরের মাচে বাংলাদেশের ৩৩০/৬-এর জবাবে ৩০৯/৮-এ থেমে গিয়ে হার ২১ রানে।

ফেবারিট ভারতের কাছেও পাত্তা পায়নি ডুপ্লেসিসের দল। ৯ উইকেটে মাত্র ২২৭ রান তোলার পর হারতে হয়েছে ৬ উইকেটে। ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পর বড় সব টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট দক্ষিণ আফ্রিকার সাফল্যের খাতা শূন্য। এবি ডি ভিলিয়ার্স অবসরে, অফ-ফর্মে হাসিম আমলা, ইনজুরিতে লুঙ্গি এনগিদি ও ডেল স্টেইন- এবার দলটিকে ঘিরে খুব বেশি প্রত্যাশা নেই। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অধিনায়ক ডুপ্লেসিস সেটি নিজেই স্বীকার করেছিলেন। তাই বলে শুরুটা এত বাজে হবে সেটি হয়তো অনেকেই ভাবেননি। তারপর ‘অবসর ভেঙ্গে বিশ্বকাপে ফিরতে চেয়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স’- বড় তারকাকে নিয়ে এমন খবর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। এই অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে হলে ব্যাটিংয়ে বড় দায়িত্বটা অধিনায়ক ডুপ্লেসিস, অভিজ্ঞ ডেভিড মিলার ও জেপি ডুমিনিকে নিতে হবে। বোলিংয়ে প্রোটিয়ারা চেয়ে থাকবে দুই তারকা পেসার কাগিসো রাবাদা আর লেগস্পিনার ইমরান তাহিরের দিকে।

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা চতুর্থ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ আছে আট নম্বরে। ১৯৯২-২০১৬ পর্যন্ত মুখোমুখি ৬১ ওয়ানডের ৪৪টিতে জয় প্রোটিয়াদের, ক্যারিবীয়দের সাফল্য ১৫। একটি ম্যাচ টাই হয়, পরিত্যক্ত এক। বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত দু’দল মোট ৬টি ম্যাচ খেলেছে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৪ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটিতে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সংখ্যাতত্ত্ব

০- বিশ্বকাপে এর আগে কখনো টানা ৩ ম্যাচ হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু এবার লজ্জার রেকর্ডটি গড়ে ফেলেছে তারা।
২- ইংল্যান্ডের মাটিতে শেষ ১০ ওয়ানডেতে মাত্র ২ জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এর মধ্যে টানা ৫ ম্যাচে হার দেখেছে প্রোটিয়ারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজও ইংল্যান্ডের মাটিতে তাদের শেষ ১৪ ওয়ানডে ম্যাচের ২টিতে জিতেছে।
৩- ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ৩ বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রত্যেকটিতেই জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্যারিবীয়দের কাছে সর্বশেষ তারা হেরেছিল ২০০৩ সালের আসরে। আর ওয়ানডেতে শেষ ৩ বছরের মুখোমুখি হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
২৪.৬- ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার কুইন্টন ডি ককের ব্যাটিং গড়। ৫ ইনিংসে মাত্র ১২৩ রান করতে পেরেছেন এই বাঁহাতি।
২৬- ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৮ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার লেগস্পিনার ইমরান তাহিরের উইকেট সংখ্যা। তাহিরের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগারটাও (৭/৪৫) উইন্ডিজের বিপক্ষেই।
৩২- দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্রিস গেইলের ব্যাটিং গড়।
বাঁহাতি ওপেনারের ক্যারিয়ারের ২৫ ওয়ানডে সেঞ্চুরির ৩টি প্রোটিয়াদের বিপক্ষে। তবে ২০০৬ সালের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আর কোনো শতক হাঁকাতে পারেননি গেইল।
৮১.৭৬- ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল হাশিম আমলা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ ইনিংসেই ১০৬৩ রান করেছেন এই ডানহাতি। সেঞ্চুরি ৫টি, হাফসেঞ্চুরি ৪টি।
৭৯২৯- ওয়ানডেতে ১৭৩ ইনিংসে হাশিম আমলার রান। আর ৭১ রান করলেই দ্রুততম ৮ হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করবেন তিনি। বর্তমানে রেকর্ডটি ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির দখলে। তার লেগেছে ১৭৫ ইনিংস।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here