বিশ্বকাপে ভারতের সূচনাটা হয়েছে দুর্দান্ত। প্রথম দুই ম্যাচের দুটিতেই জয়, পুরো ভারতেই চলছে জয়োৎসব। গতকাল রবিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় সেই  আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটা।  কিন্তু এরই মাঝে এলো দুঃসংবাদ।  আজ সোমবার  যুবরাজ সিং যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।

 গত কয়েকবছর ধরেই যুবরাজের অবসর নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে তাকে নিয়মিতই একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতো, ‘কবে অবসর নেবেন?’ এই প্রশ্নের জবাবে যুববার একবার বলেছিলেন, ‘একটা সময়ের পর সবাইকেই অবসরের কথা ভাবতে হয়। আমি অনেকদিন যাবৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি। ২০১৯ সালের পরে এই ব্যাপারে ভাববো।’

 কিন্তু কথা রাখলেন না যুবরাজ। আসলে মনে মনে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন লালন করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভারতের বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না হওয়ায় অনেকটা  অভিমান থেকেই বিশ্বকাপের মাঝখানেই অবসরের ঘোষণা দেন এই অলরাউন্ডার। তার অবসরের ঘোষণার পরেই পুরো ভারত জুড়েই স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এ খবর।

 যুবরাজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ।  আন্তজার্তিক ক্যারিয়ারে ৪০টি টেস্ট, ৩০৪টি ওয়ানডে এবং ৫৮টি টি-টোয়েন্টি খেলা যুবরাজের মোট রান সংখ্যা ১১৭৭৮ ও উইকেট সংখ্যা ১৪৮ টি। ভারতের ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক তো যুবরাজই। সে বিশ্বকাপে যুবরাজের ব্যাট হাতে ৩৬২ রানের পাশাপাশি বল হাতে ১৫ উইকেট ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করতে বড় অবদান রাখে। পাশাপাশি যুবরাজ  নির্বাচিত হন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে। এছাড়াও ২০০৭ টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ড ব্রডকে এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকান যুবরাজ।

 ক্যারিয়ারের শেষ সময়ে এসে তিনি ক্রিকেট নিয়ে তার মনের কথা জানিয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে একটি আবেগঘন ভিডিও দেখানো হয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি এই খেলাটা ভালবাসি। আবার এই খেলাটাকেই আমি ঘৃণা করি। ক্রিকেট আমাকে সুপারস্টার বানিয়েছে। আমাকে সব দিয়েছে। তাই এই খেলাটাকে আমি খুব ভালবাসি। কিন্তু, এই ক্রিকেটই আমাকে মানসিক দিক থেকে যন্ত্রণা দিয়েছে।’

 শেষ সময়ে এসে যুবরাজ তার বাবার অবদানের কথা বলতেও ভোলেননি। তার আজকের যুবরাজ হওয়ার পিছনে পুরো কৃতিত্ব যে তার বাবার, তা অকপটেই স্বীকার করেছেন। ক্যারিয়ারের স্মরণীয় ঘটনার কথা বলতে যেয়ে যুবরাজ ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনাল, ২০০৭ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্রডকে এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকানো, লাহোরে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি এবং ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের কথা বলেন।

 ২০০০ সালে আইসিসি নক আউট ট্রফিতে ভারতের হয়ে অভিষেক যুবরাজের।  অভিষেকেই বাজিমাত। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮০ বলে ৮৪ রানের ইনিংস। পরের ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৪১ রান করে ভারতকে নিয়ে যান ফাইনালে। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।  পেয়েছেন একের পর এক সফলতা ।  পেয়েছেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। ক্যান্সারে  আক্রান্ত হয়ে ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতির পর আবার রাজসিক ভাবেই ফিরে আসেন।  আইপিএলে পারফর্ম করে জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন মনে লালন করেছিলেন।  কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হবে না বুঝতে পেরে নিজেকেই সরিয়ে নিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here