পারল না অ্যারন ফিঞ্চের অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপে দুই দলের দেখায় ব্যাটে-বলে সমান দাপট দেখাল বিরাট কোহলির ভারত। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে তুলে নিল আসরে নিজেদের টানা দ্বিতীয় জয়। আর অস্ট্রেলিয়া টানা দুই ম্যাচ জেতার পর পেল প্রথম হারের স্বাদ।

রোববার ওভালে অস্ট্রেলিয়াকে ৩৬ রানে হারায় ভারত। টস জিতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ৩৫২ রানের পুঁজি গড়ে ভারত। জবাবে অস্ট্রেলিয়া থেমেছে ৩১৬ রানে। শেষ বলে অলআউট হয় দলটি।

অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের এ লড়াইকে ফাইনালের আগে রিহার্সেল বলছেন অনেকেই। তবে ম্যাচে ততোটা উত্তেজনা ছড়ায়নি। শেষ দিকে চেষ্টা করেছিলেন অসি ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি। শেখর ধাওয়ানের সেঞ্চুরির সঙ্গে অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার ফিফটিতে গড়া রানের পাহাড় টপকাতে গিয়ে ৩৬ রান দূরে থামে দলটি।

লক্ষ্য তাড়ায় দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ শুরু থেকেই ছিলে খোলসে। প্রথম পাওয়ার প্লেতে আসে ৪৮ রান। তবে রানের গতি যিনি ঠিক রাখছিলেন সেই ফিঞ্চ আউট হন রানআউটে কাটা পড়ে। ফলে বড় ধাক্কা খায় দলটি। আরেক ওপেনার ওয়ার্নার ৭৭ বলে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৮৪ বল খেলে করে ৫৬ রান।

তৃতীয় উইকেটে উসমান খাওজাকে সঙ্গে নিয়ে রানের গতি বাড়ানোর কাজে নেমেছিলেন স্টিভ স্মিথ। ৬৯ রানের জুটিও গড়েন তারা। খাওজা বোল্ড করে সে জুটি ভাঙেন জাসপ্রিত বুমরাহ। এরপর খুব বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি স্মিথও। রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরান ভুবনেশ্বর কুমার। একই ওভার মার্কাস স্টয়নিসকেও তুলে নেন ভুবনেশ্বর। তাতে বড় চাপে পড়ে যায় অসিরা।

অসিদের আশা জাগিয়ে রেখে তখনও উইকেটে ছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু জুজবেন্দ্র চাহালের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে তিনি আউট হলে তাদের আশা অনেকটাই শেষ হয়ে যায়। এরপর উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি এক প্রান্তে দারুণ ব্যাট করে চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে তার চেষ্টা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। ৩১৬ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৯ রানের ইনিংস খেলেছেন স্মিথ। ৭০ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ক্যারি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৩৫ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৫ রান করেন। এছাড়া খাওজার ব্যাট থেকে আসে ৪২ রান। ভারতের পক্ষে ৬১ রানের খরচায় ৩টি উইকেট পান ভুবনেশ্বর। ২টি করে উইকেট নেন বুমরাহ ও চাহাল।

এরআগে টস জিতে শুরতে ধীরে ব্যাট চালালেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠেন শিখর দাওয়ান ও রোহিত শর্মা। জমে যায় জুটি। ১৯তম ওভারে তিন অঙ্ক স্পর্শ করে জুটি ও দলের রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রোহিত-ধাওয়ানের এটি ষষ্ঠ শতরানের জুটি। শেষ পর্যন্ত কোল্টার-নাইল থামান রোহিতকে। তার আগে ৭০ বলে তিন চার ও এক ছয়ে ৫৭ রান করেন রোহিত।

পরে কোহলির সঙ্গে ৯৭ রানের আরেকটি ভালো জুটি উপহার দেন বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া ধাওয়ান। স্টার্কের বলে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ১১৭ রানের ইনিংস। ওয়ানডেতে ১৭তম ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ সেঞ্চুরি পাওয়া বাঁহাতি এই ওপেনারের ১০৯ বলের ইনিংস গড়া ১৬ চারে।

রানের গতি বাড়াতে রোববার হার্দিক পান্ডিয়া প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়েছিলেন। গ্লাভসে বল জমাতে পারেননি অ্যালেক্স কারি। সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগান এই অলরাউন্ডার। ২৭ বলে তিন ছয় ও চারটি চারে খেলেন ৪৮ রানের এক ইনিংস।

পান্ডিয়ার সঙ্গে ৮১ রানের জুটি উপহার দেওয়া কোহলি ওয়ানডেতে তুলে নেন পঞ্চাশতম হাফসেঞ্চুরি। পরে ২২ গজে নেমে ঝড় তোলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ১৪ বলে তিনি করেন ২৭ রান। শেষ পর্যন্ত তার ঝড়ো ইনিংস শেষ হয় মার্কাস স্টয়নিসের দুর্দান্ত এক ফিরতি ক্যাচে। শেষ ওভারে ছয়ের চেষ্টায় শেষ হয় কোহলির ৮২ রানের ইনিংস। তারপরও বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষ প্রথম সাড়ে তিনশ ছোঁয়া সংগ্রহ পায় ভারত।

অজিদের হয়ে নাথান কোন্টার-নাইল ১০ ওভারে ৬৩ রানে নিয়েছেন ১টি উইকেট। এদিকে প্যাট কামিন্স ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৫৫ রানে নেন ১টি উইকেট। এছাড়া মিচেল স্টার্ক ১০ ওভারে ৭৪ রানে নেন ১টি উইকেট।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here