আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী আখ্যায়িত করে তা বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, এ বাজেট জনকল্যাণমূল…সবাইকে আন্তরিকতার কাজ করতে হবে, যাতে করে আমরা বাংলাদেশকে অভিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারি। এ বাংলাদেশ সারাবিশ্বে আজকে একটা মর্যাদা পেয়েছে এবং বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যেতে পারে। …সবদিক থেকেই আজকে বাংলাদেশ যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সেই গতিটা যেন চলমান থাকে।’

শুক্রবার বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী।

আবাসন খাত ও শিল্প বিনিয়োগে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে টাকার ব্যবহারের জন্য তাদের আরেকটা সুযোগ দেয়া হলো।

‘আমাদের কালো টাকা মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে, অন্যথায় এটা ইঁদুরেও খেতে পারে! এ জন্য আমরা বিনিয়োগের একটা সুযোগ করে দিয়েছি। আমরাসহ সব সরকার এ সুযোগ দিয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার চায় না দেশে কালো টাকা ঢুকুক। সরকার কালো টাকা প্রকাশের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ চায়।

তিনি বলেন, দেশের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও আইটি পার্কগুলোতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে কালো টাকা বিনিয়োগের জন্য তাদের ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন যে তুলনামূলকভাবে দেশে সুদের হার অনেক বেশি আর সুদ ধরা হয় চক্রবৃদ্ধি হারে।

‘যখন হিসাব প্রকাশ করা হয় তখন চক্রবৃদ্ধি হারে খেলাপি ঋণের পরিমাণটা অনেক বড় দেখায়। প্রকৃত ঋণটা যদি ধরা হয়, তাহলে দেখা যাবে অত বড় না। এর পেছনে নিশ্চয় কোনো ইন্টারেস্ট আছে, যে জন্য ওই চক্রবৃদ্ধি হারে যেটা বর্ধিত সুদ, সেটাসহ সেটাকে খেলাপি ঋণ ধরা হয়। সেটা একটা দুর্বলতা আছে আমাদের। সেটা আমরা অ্যাড্রেস করে এবং সেটা যাতে না হয়, তার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি,’ যোগ করেন তিনি।

কৃষকদের জন্য বাজেট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষকদের বিভিন্নভাবে ভর্তুকি-প্রণোদনা দেয়। এ জন্যই দেশে এখন ফসলের ব্যাপক ফলন হচ্ছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান মানে এ নয় যে সবাইকে চাকরি দেয়া হবে। এর অর্থ হলো সরকার এমন পরিবেশ সৃষ্টি করবে যাতে প্রত্যেকে কাজে যুক্ত থাকে এবং উপার্জন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা থেকে মুক্ত করতে এবং দেশের সব ঘরে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, এখন কেউ বাংলাদেশকে অবহেলা করতে পারে না, সবাই শ্রদ্ধা করে। এটাই সরকারের অর্জন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মঞ্চে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, সাবেক অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here