ওমান সাগরে বৃহস্পতিবার দু’টি তেল ট্যাংকারে রহস্যজনক হামলার জন্য ইরানকে ফাঁসানোর যে চেষ্টা আমেরিকা করছে তা নাকচ করে দিয়েছেন হামলার শিকার একটি তেল ট্যাংকারের জাপানি মালিক ইউতাকা কাতাদা। তিনি বলেছেন, সাগর থেকে পাতানো মাইনের মাধ্যমে নয় বরং আকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে তার জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

‘কোকুকা সাঙ্গিও’ কোম্পানির প্রেসিডেন্ট কাতাদা শুক্রবার টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে হামলার শিকার ট্যাংকারের হামলার স্থানের ছবি দেখিয়ে বলেন, আমরা তেল ট্যাংকারটির আকাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া কোনো কিছুর খবর পেয়েছি। তিনি আরো বলেন, জাহাজের পাশে লাগিয়ে দেয়া কোনো টাইম বোমা বা মাইনের মাধ্যমে এ হামলা চালানো হয়নি।  কাতাদা বলেন, আকাশ থেকে ছুটে আসা ক্ষেপণাস্ত্র তার জাহাজে আঘাত হেনেছে।

হামলার শিকার তেল ট্যাংকারের জাপানি মালিক ছবি দেখিয়ে আরো বলেন, জাহাজের অনেক উপরের দিকে হামলা হয়েছে। কাজেই গানবোট থেকে পাতানো মাইন বা টর্পেডোর মাধ্যমে এ হামলা হতে পারে না।

তিনি বলেন, তার তেল ট্যাংকারের নাবিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন আকাশে থেকে কোনো কিছু ওই ট্যাংকারে প্রথমবার আঘাত হানার পর জাহাজের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাদের উপস্থিতিতেই আকাশ থেকে দ্বিতীয়বার জাহাজে আঘাত হানা হয়।

ওমান সাগরের হামলার শিকার তেল ট্যাংকারের মালিক এমন সময় এসব তথ্য জানালেন যখন ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আমেরিকা উদ্ভট তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরেছে। ওয়াশিংটন একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, হামলার শিকার তেল ট্যাংকার থেকে একটি অবিস্ফোরিত মাইন সরিয়ে নিয়েছে ইরানি নৌসেনারা। মার্কিন সরকার আরো দাবি করেছে, গানবোট থেকে জাহাজের গায়ে বসিয়ে দেয়া মাইনের মাধ্যমে ওই হামলা চালানো হয়েছে।

আমেরিকার এ দাবি তার দোসর ব্রিটেন মেনে নিলেও আমেরিকার অপর ইউরোপীয় মিত্র জার্মানি বলেছে, ওয়াশিংটনের কথিত এ প্রমাণ ইরানকে দায়ী করার জন্য যথেষ্ট নয়। রাশিয়াও বলেছে, ওই হামলার জন্য তড়িঘড়ি করে কাউকে দায়ী করা ঠিক হবে না।  এ ছাড়া, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের ইরান সফরের একই সময়ে এ হামলাকে তেহরান রহস্যজনক বলে উল্লেখ করেছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here