আফগানিস্তান -বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভালো কিছুর বার্তা দিলেও চার লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা পায়নি। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণের পর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ধুঁকতে থাকা শ্রীলংকার টুঁটি চেপে ধরেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারের বৃত্তেই আটকে যায় আফগানরা।

ইংল্যান্ড-ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হওয়ায় এবার টপ ফেভারিটের তালিকার শীর্ষে আছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। তার ওপর একবারও শিরোপার স্বাদ নেয়া হয়নি ইংলিশদের। যদিও বিশ্বকাপে প্রতিবারই ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা থাকে ইংল্যান্ডের। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর আমূল বদলে গেছে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ক্রিকেটে

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ বলে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ইয়ন মরগানের ইংল্যান্ড। ব্যাটে-বলে সমানে দু্যতি ছড়িয়ে চলেছেন জেসন রয়-জোফরা আর্চাররা। আর অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে কম যাচ্ছেন না বেন স্টোকস-জো রুটরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উড়ন্ত শুরুর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে পা-হড়কানো ছাড়া বাকি দুটি ম্যাচে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বলতে গেলে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। আজ তাদের প্রতিপক্ষ ভঙ্গুর আফগনিস্তান। যারা কিনা এখনো জয়ের খোঁজে আছে।

এরইমধ্যে আফগানরা একটি দুটি করে চার-চারটি ম্যাচ খেলেও ফেলেছে। কিন্তু প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের কাছে হেরে মাঠ ছেড়েছে। তাই তো ইংলিশদের এগিয়ে চলার পথে কি আজ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে আফগানরা? এমন এক সমীকরণকে সামনে রেখে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় দল দুটি একে অপরের মুখোমুখি হবে।

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হওয়ায় এবার টপ ফেভারিটের তালিকার শীর্ষে আছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। তার ওপর একবারও শিরোপার স্বাদ নেয়া হয়নি ইংলিশদের। যদিও বিশ্বকাপে প্রতিবারই ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা থাকে ইংল্যান্ডের। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর আমূল বদলে গেছে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ক্রিকেটে। ইয়ন মরগানদের ভয়ডরহীন ক্রিকেট যেন এক সময়ের অজেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়ার ইংলিশ সংস্করণ। আগের ছয় আসরে কোয়ার্টার-ফাইনালের বাধা পেরুতে না পারা দলটি স্বপ্ন দেখছে বিশ্ব জয়ের। সেই ধারবাহিকতায় তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ধুমড়ে-মুচড়ে ফেলেছিল। তবে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ১৪ রানে হারের পর দারুণ সতর্ক স্বাগতিকরা। যার ফলে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে খুব একটা বেগ হতে হয়নি স্বাতকিদের।

বিশেষ করে ইংলশিদের নতুন বলের বোলার জোফরা আর্চার প্রতিটি ম্যাচে তার প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন। ইংল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনে শুধু আর্চার নয়, একই সঙ্গে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন ক্রিক ওকস। এরপরে পেস অলরাউন্ডার হিসেবে যারা আছেন, তারও কম যাচ্ছেন না। বেন স্টোকস, মার্ক উড ও লিয়াম পস্ন্যানকেট। স্বাগতিক শিবিরে ভালো মানের যেমন পেসার আছেন, ঠিক তেমনি আছেন লেগ স্পিনার আদিল রশিদ এবং দুই স্বীকৃত অফ স্পিনার মইন আলি ও জো রুট। যারা কিনা যে কোনো সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজ কাঁধে তুলে নেয়ার ক্ষমতা রাখেন। ইংলিশ দুই ওপেনার জেসন রয় আর জনি বেয়ারস্টো আছে দারুণ ফর্মে। তবে ইনজুরির কারণে জনি বেয়ারস্টোর পরিবর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রয়ের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নেন জো রুট। কোনোভাবেই ইংলিশ ওপেনারদের টলাতে পারছে না প্রতিপক্ষের বোলাররা।

এরপর টপ অর্ডার আর মিডল অর্ডারে আছেন ইয়ন মরগান, জস বাটলার এবং মইন আলি ও বেন স্টোকসের অলরাউন্ডাররা। পেসার-ব্যাটসম্যান ছাড়াও লোয়ার অর্ডারে যারা ব্যাট করেন তারাও দলকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারেন। আর এই লোয়ার অর্ডারে মার্ক উড-ক্রিস ওকসদের ব্যাটিংয়ের হাত খুব একটা মন্দ নয়। তবে গত কয়েকটি ম্যাচে ইংলিশ ওপেনার আর টপ অর্ডার ভালো করায় খুব একটা পরীক্ষা ফেলতে পারেনি ইংলিশ লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের। আজ হয় হয়তো তাদের বড় রকমের পরীক্ষায় ফেলতে পারেন রশিদ খান-মুজিব-উর-রহমানরা। কারণ আফগানিস্তানের এই দুই স্পিনারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলার অভিজ্ঞতা আছে। সেই অভিজ্ঞতা হয়তো আজ কাজে লাগিয়ে ইংলিশদের বিপক্ষে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম জয় তুলে নিতে চাইবে।

কারণ গুলবাদিন নাইবের নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তান বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভালো কিছুর বার্তা দিলেও চার লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা পায়নি। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণের পর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ধুঁকতে থাকা শ্রীলংকার টুঁটি চেপে ধরেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারের বৃত্তেই আটকে যায় আফগানরা। এরপর তৃতীয় ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষেও ধারাবাহিক ব্যর্থ জাজাই, রশিদ আর নবীরা। এক নিশিমেই কুপোকাত এশিয়ার উদীয়মান এই ক্রিকেট শক্তি। এরপর নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে নড়বড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ নেয়া হয়নি মোহাম্মদ নবি-নাইবদের।

২০১৫ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে আফগানিস্তান জিতেছিল কেবল একটি মাত্র ম্যাচ। সেবার তারা জয় পেয়েছিল শুধু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটি ক্রিকেটে এগিয়েছে বহু দূর। কিন্তু প্রত্যাশামতো এখনো নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি রশিদ-নবিরা। আফগানদের মূলত বেশি ভুগিয়েছে ব্যাটিং ব্যর্থতা। এরমধ্যে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শেহজাদের চোটও দল থেকে ছিটকে পড়া নিয়ে নাটক আরও বেশি অস্বস্তি রাখবে আফগানদের। বিশ্বকাপের আগে দলের হাল ধরা গুলবাদিন নাইবের জন্য আজকের ম্যাচে কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here