ইরানের পরমাণু সমঝোতা রক্ষার ক্ষেত্রে ইউরোপ বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা সত্ত্বেও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন এ সমঝোতা রক্ষা করার ব্যাপারে তেহরানকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গতকাল (সোমবার) প্যারিস সফররত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান।

ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের নির্দিষ্ট সীমা মানবে না বলে সোমবার ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ম্যাকরন ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ইউরোপ ইরানের কাছ থেকে সংযমি ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করছে।” ইরানকে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে উৎসাহিত করার জন্য ইউরোপ প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে বলে ফরাসি প্রেসিডেন্ট দাবি করেন। তিনি বলেন, আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত ইরানের পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করার লক্ষ্যে আলোচনা ও সংলাপের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

ইরান গত ৮ মে পরমাণু সমঝোতার কিছু ধারার বাস্তবায়ন স্থগিত রাখে এবং আরো কিছু ধারা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ইউরোপকে ৮ জুলাই পর্যন্ত সময় বেধে দেয়। তেহরান বলেছে, ইউরোপীয়রা এই ৬০ দিন সময়ের মধ্যে পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রতি রক্ষা করতে না পারলে আরো কিছু ধারা থেকে বেরিয়ে যাবে ইরান।

এরইমধ্যে গতকাল (সোমবার) ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালবান্দি ঘোষণা করেন, আগামী ২৭ জুন থেকে ইরান আর সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা মানবে না। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ কেজিতে বেধে দেয়া হয়েছিল যা এতদিন মেনে চলছিল তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের ৮ মে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে তার দেশকে বের করে নেন এবং একই বছরের নভেম্বরে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। তবে ফ্রান্সসহ ইউরোপীয়  দেশগুলো ইরানকে এই সমঝোতায় অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, পরমাণু সমঝোতায় ইরানের যেসব আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল তা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় পার হওয়ার পরও ইউরোপ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here