দলের সবাইকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে, রাজি করিয়ে সম্প্রতি ব্যাটিং অর্ডারের তিন নম্বর পজিশনে উঠে এসেছেন সাকিব আল হাসান। পছন্দের জায়গায় ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েই দুর্বার-দুরন্ত তিনি। পারফরম্যান্সে যার ছাপ পড়েছে গভীরভাবে। তার ব্যাট হাসছে নিয়মিত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বধের নায়ক হওয়ার পর তাই সাকিবের সোজাসাপটা কথা, তিনে উঠে আসাটাই এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনের অন্যতম কারণ।

সোমবার (১৭ জুন) টন্টনে উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড ৩২২ রান তাড়া করে জেতার ম্যাচে সাকিব ছিলেন এক কথায়- অসাধারণ। বল হাতে ২ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও জ্বলে ওঠেন তিনি। বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তিন অঙ্কের দেখা পেয়ে ৯৯ বলে খেলেন অপরাজিত ১২৪ রানের ইনিংস। সেই সঙ্গে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকার শীর্ষস্থানটাও দখল করেছেন আবার। এই ইনিংস খেলার পথে ছুঁয়েছেন ছয় হাজার রানের মাইলফলক, দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে। দ্রুততম অলরাউন্ডার হিসেবে ছয় হাজার রান ও ২৫০ উইকেটের ‘ডাবল’ কীর্তি গড়ার রেকর্ডও লেখা হয়েছে তার নামের পাশে।

সবশেষ সাত ইনিংসের একটি বাদে সবগুলোতেই পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন সাকিব। এর মধ্যে বিশ্বকাপে ৪ ইনিংসে ২টি করে সেঞ্চুরি আর হাফসেঞ্চুরিতে ৩৮৪ রান করেছেন তিনি। এর সবই তিনে ব্যাটিং করে। তার ওয়ানডে ক্যারিয়ার গড় যেখানে ৩৭.৪২, সেখানে তিন নম্বরে ১৯ ইনিংসে গড়টা প্রায় অবিশ্বাস্য, ৫৯.৬৮!

ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব জানান, ‘আমি এখন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে বল দেখি। আমি মনে করি, এই মুহূর্তে এটা আমার ব্যাটিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে, আমি খুব ভালোভাবে বল পর্যবেক্ষণ করছি। আর আমি (তিন নম্বরে উঠে আসায়) এখন বাড়তি সময় পাচ্ছি ব্যাটিংয়ে। এটা আমাকে ভালো খেলতে সাহায্য করছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘(বিশ্বকাপ শুরুর আগে) আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। আমি এখানে ভালো করতে চেয়েছিলাম। আমি দলের প্রয়োজনে অবদান রাখতে চেয়েছিলাম। আর যা বলছিলাম, সবকিছু এখন ভালো যাচ্ছে।…আমাকে নিশ্চিত করতে হবে যেন আমি প্রাণবন্ত, নির্ভার থাকি আর যা ঘটছে তা উপভোগ করি এবং আমার গেম প্ল্যানে মনোযোগ রাখি।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here