ম্যাচের প্রথম ইনিংস অর্থাৎ ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হতেই যেন লেখা হয়ে গেল ম্যাচের ফল! আফগানিস্তানের সামনে ৩৯৮ রানের পাহাড় লক্ষ্য। ইতিহাস গড়ে এই লক্ষ্য টপকাবে আফগানিস্তান? ক্রিকেট মহা অনিশ্চয়তার খেলা হতে পারে। তাই বলে আফগানিস্তানের পক্ষে বাজি ধরার লোক ছিল না নিশ্চয়ই।

ম্যাচের ফলটাও হলো অনুমিতই। স্বাগতিক ইংল্যান্ড তুলে নিল ১৫০ রানের বিশাল এক জয়। যে জয়ে অস্ট্রেলিয়াকে দুইয়ে ঠেলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠে গেল ইংলিশরা। ওল্ড ট্রাফোর্ডে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩৯৭ রান করে ইংলিশরা। জবাবে আফগানিস্তান থেমেছে ৮ উইকেটে ২৪৭ রানে।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেন ইংলিশ অধিনায়ক মরগান। তবে শুরুটা সে অর্থে উড়ন্ত হয়নি। প্রথম পাওয়ার প্লেতে জেমস ভিন্সের উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৬ রান। এর পরেও আগ্রাসী খেলেছেন তাও নয়। ২৩ ওভার শেষে তাদের রান ছিল ১১৮/১। কিন্তু এরপরই আগ্রাসন শুরু করেন জনি বেয়ারস্টো। জো রুটের সঙ্গে গড়েন ১২০ রানের জুটি।

আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইবের বলে তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন বেয়ারস্টো। এরপর মাঠে নামে মরগান। হাল ধরেন জো রুটের সঙ্গে। ১৯৫ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটসম্যান। সবচেয়ে বড় কথা এ জুটি গড়তে বল খেলেছেন মাত্র ১০১টি। আফগান বোলারদের উপর তোপটা দাগিয়েছেন মরগানই। মাত্র ৫৭ বলে স্পর্শ করেছেন সেঞ্চুরি। শেষপর্যন্ত ৭১ বলে খেলেছেন ১৪৮ রানের ক্যামিও। ৪টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ১৭টি ছক্কা। যা ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ভেঙেছেন ক্রিস গেইল, রোহিত শর্মা ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের করা ১৬ ছক্কার রেকর্ড।

এদিন মোট ২৫টি ছক্কা মেরেছেন ইংলিশরা। যা এক ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কা মারার রেকর্ড। চলতি বছরই উইন্ডিজের বিপক্ষে ২৪টা ছক্কা মেরেছিলেন তারা। এছাড়া বিশ্বকাপে ৩৯৭ রান নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরও বটে। কদিন আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে করা ৬ উইকেটে ৩৮৬ রান ছিল সর্বোচ্চ। ইনিংসে সব মিলিয়ে এলো ২৫টি ছক্কা। যাও এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।

৯৯ বলে ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৯০ রানের ইনিংস খেলেছেন বেয়ারস্টো। জো রুট ৮২ বলে ৮৮ রান করেন। রানের গতি বাড়াতে গিয়ে আউট হন তিনি। অন্যথায় এবারের আসরে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরিটা প্রায় তুলে ফেলেছিলেন। শেষ দিকে মাত্র ৯ বলে ১টি চার ও ৪টি ছক্কায় অপরাজিত ৩১ রান করেন মইন আলি। আফগানিস্তানের পক্ষে ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন গুলবাদিন ও দৌলত জাদরান।

এদিন বিব্রতকর এক রেকর্ড গড়েছেন রশিদ খান। ৯ ওভারে ১১০ রান খরচ করেছেন তিনি। তাতে বিশ্বকাপে সবচেয়ে খরুচে বোলার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন এ লেগি। ১০ ওভারে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার রেকর্ডটি অসি পেসার মিক লুইসের। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০ ওভারে ১১৩ রান দিয়েছিলেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৯৭/৬ (ভিন্স ২৬, বেয়ারস্টো ৯০, রুট ৮৮, মরগান ১৪৮, বাটলার ২, স্টোকস ২, মইন ৩১*, ওকস ১*; মুজিব ০/৪৪, দৌলত ৩/৮৫, নবি ০/৭০, গুলবাদিন ৩/৬৮, রহমত ০/১৯, রশিদ ০/১১০)।

আফগানিস্তান: ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নুর আলি ০, গুলবাদিন ৩৭, রহমত ৪৬, হাসমত ৭৬, আসগর ৪৪, নবি ৯, নজিবুল্লাহ ১৫, রশিদ ৮, ইকরাম ৩*, দৌলত ০*; ওকস ০/৪১, আর্চার ৩/৫২, মইন ০/৩৫, উড ২/৪০, স্টোকস ০/১২, আদিল ৩/৬৬)।

ফলাফল: ইংল্যান্ড ১৫০ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ইয়ন মরগান (ইংল্যান্ড)।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here