ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি অর্জন করার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যকে নিজের অনুকূলে বদলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী- আইআরজিসি’র প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি। তিনি গতকাল (মঙ্গলবার) রাজধানী তেহরানের ‘আমিরকাবির’ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় এ মন্তব্য করেন।

জেনারেল সালামি বলেন, আমেরিকার বিমানবাহী রণতরী প্রতিহত করার উপায় খুঁজে বের করতে গিয়ে এখন থেকে ১২ বছর আগে ইরান এ প্রযুক্তি অর্জন করে। তিনি বলেন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধীরগতির এবং কম উচ্চতা দিয়ে উড়ে যায় বলে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভর করা যাচ্ছিল না। তাই ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে মনযোগ দেয়।

আইআরজিসি’র প্রধান বলেন, শব্দের গতির চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুতবেগে চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে শনাক্ত করা কঠিন।

মার্কিন সরকার ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে তেহরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী, একটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, বি-৫২ বোমারু বিমান এবং অতিরিক্ত প্রায় দেড় হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। সোমবার ওয়াশিংটন ঘোষণা দিয়েছে, দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে আরো এক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে। কিন্তু একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর গলায় বলে আসছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চান না তিনি।

এদিকে, আমেরিকার এ সমরসজ্জাকে তেহরান ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।  জেনারেল সালামি এ সম্পর্কে মঙ্গলবার আরো বলেন, আমেরিকা যত বেশি চাপ সৃষ্টি করুক তাতে ইরানের কোনো ক্ষতি হবে না। আমেরিকা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং মার্কিন আধিপত্যবাদের দিন শেষ হয়ে এসেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here