ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী- আইআরজিসি’র প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, শত্রুকে মোকাবেলার একমাত্র উপায় হচ্ছে অব্যাহত প্রতিরোধ এবং এটাই ইরানি জাতির বিজয়ের একমাত্র পথ।

আইআরজিসি’র প্রধান বিশ্বে মার্কিন নীতির ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, বর্তমানে ইরান অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে শত্রুর মোকাবেলায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে ইসলামি পরিচিতি ও ইরানি জগণের বিপ্লবী আদর্শ ভূমিকা রেখেছে। আমেরিকার সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি কৌশল নেই উল্লেখ করে হোসেইন সালামি আরো বলেছেন, “আমাদের শত্রুরা ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছে এবং মার্কিন আধিপত্যের দিনও শেষ হয়ে আসছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সমৃদ্ধ ইতিহাস, ধর্মীয় চেতনা ও ইসলামি বিপ্লবী আদর্শের কারণে ইরানি জাতি কখনই মাথা নত করে না আর এই স্বাধীনচেতা মনোভাবই তাদের বিজয় এনে দিয়েছে। এ কারণে ইরান আজ মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছরে সব ক্ষেত্রে ইরানের প্রতিরোধ সাফল্য পেয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এ ক্ষেত্রে ইরাকের সাদ্দাম সরকারের চাপিয়ে দেয়া আট বছরের প্রতিরক্ষা যুদ্ধের মূল্যবান অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা যায়। বর্তমানে আমেরিকা ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও ইরানের জনগণের প্রতিরোধ মার্কিন কর্মকর্তাদের হিসাব নিকাশ পাল্টে দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের জনগণের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতিরোধ আমেরিকাকে হতাশ করেছে। এমনকি মার্কিন কর্মকর্তারা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। মার্কিন হতাশা ও ব্যর্থতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা মিথ্যা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির জন্য ইরানকে দায়ী করছে। কিন্তু এ ব্যাপারেও কোনো দেশ আমেরিকার বক্তব্যকে পাত্তা দেয়নি।

মার্কিন রিপাবলিকান দলের নেতা মার্ক ড্যানকাফ এ ব্যাপারে বলেছেন, ওমান সাগরে দুটি তেল ট্যাংকারে হামলার সঙ্গে ইরানের জড়িত থাকার ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ ডাহা মিথ্যা। এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের জন্য তারা জাল ভিডিও তৈরির আশ্রয় নিয়েছে। মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, তেল ট্যাংকারে হামলার সঙ্গে ইরানের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য আমেরিকা মিথ্যা ভিডিও তৈরি করলেও কোনো দেশ তাতে বিশ্বাস করেনি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সব ক্ষেত্রে মার্কিন ব্যর্থতা ঐতিহ্যবাহী ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জনগণকে সন্ত্রাসী জাতি বলে মন্তব্য করেছে। যদিও এটা সবারই জানা আছে যে কারা সত্যিকারের সন্ত্রাসী। এটা আজ প্রমাণিত যে মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসীদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here