চলমান বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে সবচেয়ে দুর্বল দল বলা হয়েছিল। কাগজে-কলমে দুর্বল শ্রীলঙ্কা মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের শক্তি ফের প্রমাণ করল লঙ্কানরা। স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ২০ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে মালিঙ্গারা।

জোফরা আর্চার যখন আউট হলেন তখন জয় থেকে ৪৭ রান দূরে ইংল্যান্ড। এরপর এক প্রান্ত ধরে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছিলেন বেন স্টোকস। মার্ক উডকে নিয়ে ২৬ রানের জুটিও গড়েছিলেন। ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে চার ছক্কায় ম্যাচকে কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ৪৭তম ওভারের পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়েই ভুলটা করে ফেলেন তিনি। শেষ বলে খোঁচা মেরে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনেন উড। তাতে রোমাঞ্চকর জয় পায় লঙ্কানরা।

ম্যাচের শুরুতেই চাপে পড়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। এত কম স্কোরের পরেও লঙ্কান টো ক্রাশারই মূলত ধসিয়ে দেন ইংলিশদের টপ অর্ডার। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফেরান ওপেনার জনি বেয়ারস্টোকে।

সপ্তম ওভারে আরেক ওপেনার ভিন্সকে ফিরিয়ে তাদের আরও চেপে ধরে শ্রীলঙ্কা। এমন চাপের মাঝে জো রুট ও এউইন মরগান জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন। মরগানকে ২১ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভেঙে তাদের বিপদ বাড়িয়ে দেন উদানা। ইংল্যান্ডের চাপটা আরও বেড়ে যায় ৫৭ রান করা জো রুটকে মালিঙ্গা গ্লাভসবন্দী করালে।

এত চাপের মাঝে তারা জয়ের পথটা খোঁজার চেষ্টায় ছিল বেন স্টোকস আর জস বাটলারের ব্যাটে। ম্যাচের এখানেই মূল টার্নিং পয়েন্টটা লিখে দেন মালিঙ্গা। বাটলারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে বিদায় দেন তিনি। এরপর মঈন আলী আর স্টোকস মিলে দলকে টেনে টোলার চেষ্টায় ছিলেন যদিও। কিন্তু শেষটা আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে মঈন আলী অফস্পিনার ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে।

ডি সিলভা ৪১তম ওভারে ক্রিস ওকস ও আদিল রশিদকে ফেরালে ম্যাচটা পুরোপুরি ঝুঁকে যায় লঙ্কানদের দিকে। আর্চারও ফিরে গেলেও শেষ দিকে মার্ক উডকে সঙ্গী করে ম্যাচ জয়ের একটা সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন স্টোকস। ৪৭তম ওভারে উড প্রদীপের বলে গ্লাভসী বন্দী হলে ম্যাচের ইতি ঘটে এখানেই। বেন স্টোকস ৮৯ বলে ৮২ রানে অপরাজিত ছিলেন শেষ পর্যন্ত।

 ৪৩ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা লাসিথ মালিঙ্গা। তাতে বিশ্বকাপে ৫০ উইকেট শিকারের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন এদিন। ডি সিলভা নিয়েছেন ৩টি। দুটি নেন উদানা, একটি প্রদীপ।

এত কম স্কোরেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার পেছনে মূল কারিগর ছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। সাবেক এই অধিনায়কের লড়াকু হাফসেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ২৩২ রান করে শ্রীলঙ্কা।

হেডিংলিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কার ওপেনারদের ব্যর্থতার পর দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন ম্যাথুজ। সতীর্থদের ব্যর্থতায় তিনি একাই হাতে লড়াই করে গেছেন। ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন। তাতে ছিল ৫টি চার ও একটি ছয়।

শুরুতে ইংলিশ পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে এলোমেলো হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৩ রানে তারা হারায় ওপেনিং দুই ব্যাটসম্যানকে। শুরুটা করেছিলেন জোফরা আর্চার। বার্বাডোসে জন্ম নেওয়া এই পেসারের আঘাতে ফিরে যান দিমুথ করুণারত্নে (১)। ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই দুই বল পর প্যাভিলিয়নে ‍ফেরেন আরেক ওপেনার কুশল পেরেরা (২)। এবার উইকেটের খাতায় নাম তোলেন ক্রিস ওকস।

ওই ধাক্কা অবশ্য কাটিয়ে উঠেছিল লঙ্কানরা অভিষ্কা ফার্নান্ডো ও কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে। দলীয় রান বাড়ানোর সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্জনে হাফসেঞ্চুরির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন অভিষ্কা। কিন্তু ৪৯ রানে মার্ক উডের শিকার হয়ে তিনি ফিরে গেলে শ্রীলঙ্কার হারায় তৃতীয় উইকেট।

এরপরই শুরু ম্যাথুজ-মেন্ডিসের প্রতিরোধ। চতুর্থ উইকেটে তারা গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ৭১ রানের জুটি। তাতে বড় স্কোরের সম্ভাবনা তৈরি হয় ১৯৯৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের। যদিও হাফসেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে থাকতে কুশল মেন্ডিস ফিরে গেলে সেই সম্ভাবনা মিইয়ে যায় ধীরে ধীরে। ৬৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংসটি তিনি সাজান মাত্র ২ বাউন্ডারিতে।

শ্রীলঙ্কা আরও বিপদে পড়ে জীবন মেন্ডিস (০) মুখোমুখি প্রথম বলেই আদিল রশিদের শিকারে পরিণত হলে। পরের সময়টায় ধনাঞ্জয় ডি সিলভা (২৯) চেষ্টা করেও বেশিদূর যেতে পারেননি। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৮তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে লড়াই চালিয়ে যান ম্যাথুজ।

শ্রীলঙ্কাকে অল্পতে আটকে রাখার পথে ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন দুই পেসার মার্ক উড ও জোফরা আর্চার। ২ উইকেট শিকার স্পিনার আদিল রশিদের। আর একটি উইকেট নিয়েছেন ক্রিস ওকস।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here