মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইন থেকে ছিটকে যাওয়ার ঘটনায় এ পর্যন্ত  সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সাথে কমপক্ষে শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।

রবিবার রাত ১২টার দিকে কুলাউড়ার বরমচাল স্টেশনের পাশে বনশাইলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় সেতু ভেঙে ট্রেনের একটি বগি নিচে পড়ে যায় এবং বাকি চারটি বগি সেতুর পাশে কাত হয়ে পড়ে।

এর আগে রাত ১০টায় সিলেট স্টেশন থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনটি ছেড়ে যায়।

যেভাবে ছিটকে খালে পড়ল ‘উপবন এক্সপ্রেস’

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন। উদ্ধার করা সাত লাশের মধ্যে তিনজন নারী ও চারজন পুরুষ বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত  সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতের সংখ্যা শতাধিক।’

তবে স্থানীয়রা আরও কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন।

ট্রেনের যাত্রী গোলাপগঞ্জের খাইরুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘আমাদের বগির মধ্যে একজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অনেকে হাত-পাসহ বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পেয়েছেন।’

আহতদের মধ্যে ২০ জনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক। অনেককে মৌলভীবাজার জেলা হাসপাতালে পাঠানোর কথাও জানান তিনি।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উয়ারদৌস হাসান জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছে। ট্রেনের অন্য যাত্রীদেরও নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়ার কাজ করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার ফলে সিলেটের সাথে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

যাত্রীরা জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন ঢাকাগামী যাত্রীরা। ফলে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি সিলেট থেকে ছেড়ে যায়।

গত ১৮ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি সেতু ভেঙে পড়ায় সিলেটের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগও সাত দিন ধরে প্রায় বন্ধ রয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here