সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে বাংলাদেশের চাই জয়। সে লক্ষ্য পূরণে সোমবার সাউদাম্পটনের রোজ বোলে বিকালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নেমেছে টাইগাররা। তার আগে টস জেতেনি মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। যে কারণে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক স্টিভ রোডস শিষ্যদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে।

সেমি-ফাইনালে যাওয়ার আশা টিকিয়ে রাখতে এই লড়াইয়ে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের। মাশরাফীরা ভালোমতোই জানেন এই ম্যাচে হারলে আড়ালে চলে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে জয় বা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে লড়াই করার সাফল্য। তবে ফর্মের হিসেবে বাংলাদেশ একটু স্বস্তিতে থাকতে পারে।

অন্যদিকে বিশ্বকাপটা একদমই ভালো যাচ্ছে না আফগানদের। এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলে সবকটিতেই হেরেছে তারা। টুর্নামেন্টে আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। জয়ের আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়াই এখন দলটির লক্ষ্য। এর মধ্যে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে দারুণভাবে লড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে আফগানিস্তান দল।

অতীত বলছে আফগানিস্তান বরাবরই বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষা। ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত সাতবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে চারবার জিতেছে বাংলাদেশ, তিনবার আফগানিস্তান। সবশেষ এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়েছিল উভয়। সেখানে প্রথম ম্যাচ হারার পর সুপার ফোরে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের জন্য আরেকটা দুশ্চিন্তা হতে পারে, প্রথম চার ম্যাচে খেই হারানোর পর ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের স্পিন ত্রয়ী রশিদ খান-মুজিব উর রহমান ও মোহাম্মদ নবীর একসঙ্গে জ্বলে ওঠা। পরিচিত ভেন্যু ও উইকেটেই টাইগারদের বিপক্ষে লড়বে গুলবাদিন নাইবের দল। তাই আফগান স্পিন সামাল দেওয়াই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এই লড়াইয়ে নজর থাকছে বাংলাদেশ দলের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দিকে। দারুণ ছন্দে আছেন তিনি। দুই সেঞ্চুরি ও একটি হাফ-সেঞ্চুরিসহ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সাকিব। ৩৫ রানের পাশপাশি দুটি উইকেট নিতে পারলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০০ রান ও ৩০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়বেন সাকিব।

ফর্মে আছেন বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমও। সবশেষ ম্যাচে হার না মানা সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। ম্যাচটিতে দারুণ এক অর্ধশতক হাঁকিয়ে নিজের সক্ষমতার বার্তা দিয়েছেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। রানে ফিরেছেন ওপেনার তামিম ইকবালও। আশা করা যায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ছন্দে থাকবেন তারা। সেক্ষেত্রে বড় সংগ্রহই আশা করতে পারে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ একাদশ : 

তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মাদ সাইফউদ্দিন, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), ও মুস্তাফিজুর রহমান।

আফগানিস্তান একাদশ : 

সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, গুলবাদীন নায়েব (অধিনায়ক), রহমত শাহ,  হাশমতউল্লাহ শহিদী,আসগর আফগান,মোহাম্মদ নবী, নাজিবুল্লাহ জাদরান,ইকরাম আলিখিল (উইকেটরক্ষক), রাশিদ খান,  দৌলত জাদরান ও মুজিব উর রহমান।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here