বিশ্বকাপের রেসে আগেই ছিটকে গেছে আফগানিস্তান। পাকিস্তানের বিপক্ষে তুলে নিতে পারতো একটি সান্ত্বনার জয়। পেতে পারতো ২ পয়েন্ট। কিন্তু হাতের নাগালে চলে আসা ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে আফগানিস্তানের ম্যাচ ফিক্সিং বা পাতানো ম্যাচ নিয়ে।

শেনওয়ারির ওভার হাতে রেখেও ৪৬তম ওভারে নিজে বল করতে এসে সেই অভিযোগের মুখে পড়েছেন আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নায়েব। ওই ওভারটিতে ১৮ রান দিয়েছিলেন নায়েব।

বিষয়টি ক্রিকেট মহলে আসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়েছে। এ নিয়ে জোর সমালোচনাও হচ্ছে নায়েবের। ম্যাচ শেষে নায়েব উল্টো পাকিস্তানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ম্যাচ জিতে নেয়ার জন্য।

এ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও খেলা বিষয়ক ওয়েবসাইটগুলো সরব হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। গুলবাদিনের কঠোর সমালোচনা চলছে চারপাশে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইসিসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে তাকে দল থেকে বহিষ্কারেরও দাবি উঠেছে।

গুলবাদিনের সমালোচনা করে ফক্স স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগান অধিনায়ক পাকিস্তানকে ম্যাচটি উপহার দিয়েছেন। প্রতিবেদনে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের পোস্টগুলোও তুলে ধরা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা টেলিগ্রাফ এ ধরনের জয়কে পাতানো ম্যাচের জয় বলে দাবি করা হয়েছে।

টেলিগ্রাফ লিখেছে- ম্যাচটা যখন স্পিনাররা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিল ঠিক তখনেই স্পিনার সরিয়ে নিজে বল হাতে তুলে নিলেন আফগান অধিনায়ক। পাকিস্তানের ৪৬তম ওভারে বল করতে এসে ৬ বলে ১৮ রান দিলেন। পুরো ম্যাচটি জিততে পাকিস্তানকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেন গুলবাদিন!

পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন নবি, মুজিব, রশিদ ও শেনওয়ারিরা। মুজিবুর রহমান ১০ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ২ উইকেট, মোহাম্মাদ নবীও ১০ ওভারে ২৩ রানে ২ উইকেট, রশিদ খান ১০ ওভারে ৫০ রানে ১ উইকেট ও সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ৮ ওভার বল করে ৩২ রান দিয়েছেন। অথচ গুলবাদিন ৯.৩ ওভারে দিয়েছেন ৭৩ রান। তিনি কেন শেনওয়ারির ওভারগুলো কাজে লাগালেন না এখানেই ফিক্সিংয়ের অভিযোগটা জোরালো হয়েছে।

অন্যদিকে ৫০তম ওভারে পাকিস্তানের জয়ের জন্য যখন ৬ বলে ৬ রান দরকার তখন গুলবাদিন সহজ রান আউটের সুযোগও মিস করলেন। উল্টো ২ রান নিয়ে ম্যাচটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। শেষ সময়ে গুলবাদিনের এমন ভূমিকা তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’-এর প্রধান সম্পাদক শেখর গুপ্ত টুইটারে লিখেন, ‘আফগানিস্তানের উচিত তাদের অধিনায়ককে ছাঁটাই করা। দলকে জয়ের পথ তৈরি করে তিনি তারকা হতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এত বাজে ও স্বার্থপর অধিনায়ক কখনও দেখিনি।’

সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন গুলবাদিনের সমালোচনা করে টুইটারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তীব্র ভাষায়।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ম্যাচ ফিক্সিং ঠেকাতে কঠোর হয় আইসিসি। সেজন্য বিশ্বকাপে প্রতিটি দলের সঙ্গে একজন করে দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান-পাকিস্তান ম্যাচে সেই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগটা চলেই এলো!

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here