হার্দিক ফেরার পরে কী কারণে ৪৫ নম্বর ওভার থেকেই হঠাৎই সিঙ্গলস নেওয়ার রাস্তায় চলে গেলেন ধোনি আর কেদার? তার ব্যাখ্যা খুঁজছে কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী। হার-জিতের তফাত মাত্র ৩১ রানের বলেই প্রশ্নটা কোটি টাকার। এই প্রথম একটা ৩০০ প্লাস স্কোর তাড়া করতে হল আর সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়ল ভারতীয় ব্যাটিং। হার্দিক ফেরার পরে পাঁচ ওভারে দরকার ছিল ৭১। ক্রিজে ধোনি, সঙ্গে আইপিএলে তাঁর চেন্নাই সুপার কিংসে খেলা টিমমেট কেদার যাদব। আইপিএলের যুগে পাঁচ ওভারে ৭১ রান নেয়া কঠিন কিছু না। সেখানে রান তাড়া করে ফিনিশ দূরের কথা, বিগ শটই বেরোল না ধোনির ব্যাট থেকে। একই দোষে দোষী কেদারও। একটা ম্যাচে হারতেই পারে টিম, কিন্তু শেষ দিকে বিগ শট মারা অনীহায় বিরক্ত গ্যালারি আওয়াজ তুলল, ‘হায় হায় ধোনি!’ ক্রমাগত সিঙ্গলস নিয়ে নিয়ে ম্যাচকে মেরে ফেলার অর্থ কী, সেই প্রশ্নে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া।

তাহলে কি হার্দিক ফিরতেই ধোনি-কেদার ধরে নিয়েছিলেন, আর জেতার চেষ্টা করারই দরকার নেই? এজবাস্টনের ছোট মাঠে ইংল্যান্ড ইনিংসে আছে ১৩টা ছক্কা, সেখানে ভারতের ৫০ ওভারে মাত্র একটা! সেটাও ম্যাচ একেবারে মরে যাওয়ার পরে শেষ ওভারে মে*রেছেন ধোনি। পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, জেতার চেষ্টাটা থাকবে না কেন? হার্দিক (৩৩ বলে ৪৫) যতক্ষণ ছিলেন, ম্যাচে ভালোভাবেই ছিল ভারত। কিন্তু তার পরেই ধোনি-কেদার জুটির ব্যাখ্যাহীন স্লো ব্যাটিং।

রোহিত ফেরার পরে ঝিমিয়ে পড়া এজবাস্টন গ্যালারি হঠাৎ তেতে যায় হার্দিক নামতেই। জীবনের প্রথম বিশ্বকাপে রিশাবের ২৯ বলে ৩২-এ চমক আছে, কিন্তু একবারও মাঠ পার করতে পারেননি রিশাব। ফলে বিজয় শঙ্করের বদলে তাঁকে খেলানোর অঙ্কটা শেষ পর্যন্ত ক্লিক করেনি। হার্দিকের মধ্যে চেষ্টা ছিল, তিনি যথাসাধ্য করেছেন। কিন্তু গেমচেঞ্জার হতে পারেননি।

আসুন প্রথমেই কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করা যাক–শেষ ৫ ওভারে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও কেদার যাদব নিলেন মাত্র ৩৯ রান। জয়ের জন্য দরকার ছিল ৭১ রান। জয়ের জন্য চেষ্টা না করে কেন এই শম্ভুক গতির ব্যাটিং?-শেষ ৫ ওভারে ছ্ক্কা একটিও। চার এসেছে কেবল তিনটি।-হার্দিক পান্ডিয়া ফেরার পরে কী কারণে ৪৫ নম্বর ওভার থেকেই হঠাৎই সিঙ্গলস নেওয়ার রাস্তায় চলে গেলেন ধোনি আর কেদার যাদব?-হার্দিক ও ঋষব পান্ট আউট হওয়ার পরে বিনা লড়াইয়ে কেন আত্মসমর্পণ করলেন ধোনি-কেদার?-এজবাস্টনের ছোট মাঠে ইংল্যান্ড গুণে গুণে ১৩ ছক্কা হাঁকালো,সেখানে ভারতের ছক্কা মাত্র একটা! সেটাও ইনিংসের শেষ ওভারে!-এই কি সেই ধোনি, যাকে ক্রিকেট বিশ্বের সেরা ফিনিশার মনে করা হয়?

এই রকম আরো অনেক প্রশ্ন আছে ক্রিকেট সমর্থকদের মনে। কে দেবে তার উত্তর, জানা নেই। ইংল্যান্ডের কাছে ভারতের এমন পরাজয়ে ক্রিকেটীয় চেতনা নষ্ট হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে। অনেকে তো ম্যাচ পাতানোর অভিযোগও তুলছেন। দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররাই ভারতের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বাদ দিন, আসুন ম্যাচের দিকে চোখ ফেরানো যাক। ধোনি ও কেদার যাদবরা যখন এক এক রান নিচ্ছিলেন গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল,‘হায় হায়!’ এমন নয় যে, অনেক বড় ব্যবধানে হেরেছে বিরাট কোহলির দল। ব্যবধানটা মাত্র ৩১ রানের। আর সে কারণেই প্রশ্ন উঠেছে অনেক।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here