কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে ৩ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। ২০০৭ সালে সর্বশেষ এই দুই দল কোপায় মুখোমুখি হয়েছিল।

ঠিক ১২ বছর আগে কোপা আমেরিকার ফাইনালে মুখোমুখি হয় আলভেজ-মেসিরা। শিরোপা নির্ধারণী সে ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে অষ্টম ও শেষ শিরোপা জিতে ব্রাজিল। ২০০৭ সালে ১৫ জুলাই ভেনেজুয়েলায় অনুষ্ঠিত কোপার ৪২তম আসরের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারায় ব্রাজিল।

এরপর দুই দল বেশ কয়বার প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু দুধের সাধ কি আর ঘোলে মেটে! অবশেষে আবার দুই দলকে দেখা যাবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে। মযার্দাপূর্ণ লড়াইয়ে। কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে।

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ফুটবলের ঐতিহাসিক মঞ্চ কোপা আমেরিকায় আর সাক্ষাত হয়নি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার। এর মাঝে বয়ে গেছে টুর্নামেন্টের আরও তিনটি আসর। ২০১১, ২০১৫ ও ২০১৬ এই তিন আসরে নকআউট পর্বেই (কোয়ার্টার ফাইনাল) বিদায় নিতে হয় পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।

২০১১ এর কোপায় নকআউট পর্ব থেকে বিদায় নিলেও পরের দুই আসরের টানা ফাইনাল খেলে আর্জেন্টিনা। সুযোগ ছিলো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের তকমাটা নিজেদের নামের পাশে লাগানোর। কিন্তু পর পর দুইবার ফাইনালে চিলির কাছে পরাস্ত হয়ে স্বপ্ন ভাঙ্গে মেসিদের। এর আগে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪বার কোপার মুকুট উঠে আর্জেন্টিনার মাথায়।

ফুটবলে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই মানেই কোটি ভক্তের হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া। শুরু হয় পরস্পরের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ। চরম উত্তেজনায় থাকে গোটা ফুটবল বিশ্ব। তেমনই এক উত্তেজনাকর মুহূর্ত থেকে মাত্র এক দিন দূরে আমরা। চলুন তার আগে জেনে নেই দুই দলের কিছু সমীকরণ:

এ দুই দলের পরস্পরের মুখোমুখিতে জয়ের পাল্লাটা ব্রাজিলের ভারী। তবে কোপাতে আর্জেন্টিনার জয়ের সংখ্যাই বেশি। ল্যাটিন আমেরিকার এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্রাজিলের জয় ৪৫ ম্যাচে আর আর্জেন্টিনা জিতেছে ৩৯টি ম্যাচ, ড্র হয়েছে বাকি ২৬টি ম্যাচ। মোট জয়ে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলে কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার আধিপত্যই বেশি। কোপাতে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে সর্বমোট ৩২ বার। আর্জেন্টিনার ১৬ জয়ের বিপরীতে ব্রাজিলের জয়ের সংখ্যা ১০। বাকি ৬ ম্যাচ ড্র ।

কোপার পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও ঐতিহাসিক এই টুর্নামেন্টে সর্বশেষ ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের জয়টি ছিল ২৮ বছর আগে। ১৯৯১ সালে শেষবার ব্রাজিলকে ২-৩ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। এরপর আরও পাঁচ বার মুখোমুখি হলেও কোনো জয় পায়নি ম্যারাডোনার অনুজরা।

তাই দীর্ঘ দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সুপার এল-ক্লাসিকোর দিকেই তাকিয়ে গোটা ফুটবল বিশ্ব।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here