সেমি ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে ইংল্যান্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো এই ম্যাচ। সেই বড় চ্যালেঞ্জে ভারতের বিপক্ষে জিতে অনেকটায় নির্ভার হলো স্বাগতিকরা। ৮ ম্যাচ থেকে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পুনরুদ্ধার করলো চতুর্থ স্থান। অন্যদিকে শঙ্কায় পড়ে গেল টেবিলের চতুর্থস্থানের জন্য লড়াই করার বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এতো দিন এক ম্যাচ জিতলেও রান রেটে একটা আশা করতেই পারতো বাংলাদেশ। ভারতের এই হারে এখন বাকি দুই ম্যাচ জয়ের কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের। সেই সঙ্গে বেশি কঠিন সমীকরণে পড়ে গেল শেষ তিন ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা পাকিস্তান। আর কাগুজে কিছু হিসাব বাদ দিলে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ছিটকে গেল শ্রীলঙ্কা!

আজ রবিবার ইংল্যান্ডের বার্মিহ্যামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইয়ন মরগ্যান। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সফল করে তোলেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জনি বেয়ারস্টো ও জেসন রয়। এই জুটির ১৬০ রানে সুবিধাজনক অবস্থায় চলে যায় ইংল্যান্ড। বেয়ারস্টোর ১১১ ও বেন স্টোকের ৭৯ রানে ভর করে ৩৩৭ রানে বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। জবাবে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ভারতের ইনিংস থামে ৩০৬ রানে। ৩১ রানের জয় পায় ইংল্যান্ড।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান। মাঠে নামার আগেই সুসংবাদ পায় দলটি। ইনজুরি কাটিয়ে একাদশে ফিরলেন জেসন রয়। শুধু ফিরলেনই না, ইংল্যান্ডের সুসময়ও যেন ফিরিয়ে আনলেন। বেয়ারস্টোর সঙ্গে দলকে এনে দিলেন উড়ন্ত সূচনা। ওপেনিং জুটিতেই আসে ১৬০ রান। অতিরিক্ত ফিল্ডার রবিন্দ্র জাদেজার দারুণ ক্যাচে ভাঙে ইংলিশদের ওপেনিং জুটি। লংঅনে দারুণ ক্যাচ ধরেছেন তিনি।

৫৭ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন রয়। তবে আউট হতে পারতেন আরও আগে। ১১তম ওভারের পঞ্চম বলে ভুলটা করে ফেললেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। হার্দিক পান্ডিয়ার করা সে বলে রয়ের গ্লাভস ছুঁয়ে গেল উইকেটরক্ষক মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে। আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আম্পায়ার দিলেন ওয়াইড। তবে রিপ্লেতে দেখা আউট ছিলেন রয়। রিভিউ নিলে ৪৯ রানেই ভাঙত ইংলিশদের ওপেনিং জুটি।

দ্বিতীয় উইকেটেও রুটকে নিয়ে দারুণ ব্যাট করেন বেয়ারস্টো। গড়েন ৪৫ রানের জুটি। বেয়ারস্টোকে বিদায় করে এ জুটি ভাঙতেই অধিনায়ক ইয়ন মরগানকেও দ্রুত আউট করে ভারত। এরপর চতুর্থ উইকেটে জো রুটের সঙ্গে হাল ধরেন স্টোকস। স্কোর বোর্ডে ৭০ রান যোগ করেন এ দুই ব্যাটসম্যান। এরপর এ জুটি ভাঙলে এক প্রান্তে ঝড় তুলে স্কোর বড় করতে থাকেন স্টোকস।

শেষ ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহর বলে আউট হওয়ার আগে ৫৫ বলে ৭৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন স্টোকস। এ রান করতে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন তিনি। তবে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১১১ রানের ইনিংস খেলেছেন বেয়ারস্টো। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটা তার অষ্টম সেঞ্চুরি হলেও বিশ্বকাপে প্রথম। চার ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়ে ৯০ বলেই সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন তিনি। নিজের ইনিংসটি ১০টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজান তিনি। ভারতের পক্ষে ৬৯ রানের খরচায় ৫টি উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ শামি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৩৭/৭ (রয় ৬৬, বেয়ারস্টো ১১১, রুট ৪৪, মরগান ১, স্টোকস ৭৯, বাটলার ২০, ওকস ৭, প্লাঙ্কেট ১*, আর্চার ০*; শামি ৫/৬৯, বুমরাহ ১/৪৪, চাহাল ০/৮৮, পান্ডিয়া ০/৬০, কুলদিপ ১/৭২)।

ভারত: ৫০ ওভারে ৩০৬/৫ (রাহুল ০, রোহিত ১০২, কোহলি ৬৬, পান্ত ৩২, পান্ডিয়া ৪৫, ধোনি ৪২*, কেদার ১২*; ওকস ১০-৩-৫৮-২, আর্চার ০/৪৫, প্লাঙ্কেট ৩/৫৫, উড ০/৭৩, রশিদ ০/৪০, স্টোকস ০/৩৪)।

ফলাফল: ইংল্যান্ড ৩১ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ:  জনি বেয়ারস্টো (ভারত)।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here